"মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ ",আতুরার ডিপো হাসেম বাজার শাখা। অস্থায়ী ঠিকানাঃখালেদা-মাহমুদা ম্যানশন,সঙ্গীত রোড,পাঁচলাইশ,চট্ট্রগ্রাম. আলাপনী-০১৮৩৮৬৩৭৬৯৮।ই-মেইলঃhoqcommity@gmail.com।

মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের শরাফতের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ ও অছি-এ গাউসুল আ'যম এর অবদান: পর্ব ৩

(ছ) নির্বিলাস সভ্যতার শরাফত (Simplicity of Life)
নির্বিলাস জীবন যাপন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শরাফতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারী (কঃ) আচারে ব্যবহারে, আহারে-বিহারে, এমনকি প্রত্যেক কাজের ভেতর দিয়ে নির্বিলাস সভ্যতা শিক্ষা দিয়ে গেছেন। নির্বিলাস জীবন যাপন সপ্ত-পদ্ধতির একটি অপরিহার্য অঙ্গ। বিলাসিতা মানুষের মধ্যে অনর্থকতা সৃষ্টি করে। বিলাসিতা মানুষর মধ্যে অতি ব্যয়ের অভ্যাস সৃষ্টি করে এবং অবিচার, জুলুম, প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্ধিতি, দলাদলি, প্রভৃতির জন্ম দেয় যা মানুষকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে যায়। খোদা প্রেম প্রেরণা থেকে বিচ্যূত হয়ে একজন অতি বিলাসী মানুষ জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে দুর্ণীতিকে আঁকড়ে ধরে। নির্বিলাস সুফী সভ্যতা হচ্ছে সনাতন ইসলামী সভ্যতা যা মানুষকে নিষ্প্রয়োজনীয় অতিব্যয় ও অপচয় থেকে রক্ষা করে এবং লোভ থেকে বাঁচায়। নির্বিলাস সভ্যতা মানুষের মধ্যে খোদায়ী প্রেরণা সৃষ্টি করে এবং মানুষকে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি থেকে বাঁচায়।
অছি-এ-গাউসুল আ'যম ছিলেন নির্বিলাস জীবন যাপনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি কনুইর নিম্ন পর্যন্ত লম্বিত সাদা কাপড়ের জামা, সেলাই বিহীন সাদা লুঙ্গি, সাদা টুপী, শীত ও গ্রীষ্মের উপযোগী চাদর এবং পায়ে কাঠের খড়ম ব্যবহার করতেন। তিনি মাটির উপর বিছানায় শয়ন করতে ভালবাসতেন। তিনি আড়ম্বর মোটেও পছন্দ করতেন না। চিঠি পত্রে তিনি ‘খাদেমুল ফোকরা’ বা ‘মিসকিনের সেবক’ পরিচিতি ব্যবহার করতেন। মহান আল্লাহ বলেন,
“তোমরা জেনে রাখ যে, এ পার্থিব জীবন ক্রীড় ও কৌতুক ভিন্ন নহে এবং এ সাজ-সজ্জ্বা ও পরস্পরের মধ্যে অহংকার এবং ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততির আধিক্য; ইহা বৃষ্টিধারা সদৃশ সব্জী উৎপাদনকারীকে আনন্দ দান করে, তৎপর উহা বিচুর্ণিত হয়ে যায় এবং পরকালে কঠোর শাস্তি এবং আল্লাহর সান্নিধান থেকে মার্জনা ও পরিতুষ্টি রয়েছে এবং এ পার্থিব জীবন প্রতারণার ভান্ডার ব্যতিত নহে”। (সূরা – হাদিদ, আয়াত : ২০)।
(জ) বৈষম্যহীনতা বা বিচার সাম্যের শরাফত (Lack of Discrimination or Judicial Equality)
মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শরাফতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বশেষে যে কোন স্তরের লোক সুবিচার পাওয়ার যোগ্য। উঁচু-নিচু, আশরাফ-আতরাফ, ধনী-দরিদ্র এরূপ কোন ভেদাভেদ মাইজভান্ডারী শরাফতে নেই। অছি-এ-গাউসুল আ'যম বিচার সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন লড়েছেন। সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকার কারণে কোন অন্যায় তাঁর সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি। ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোন ব্যক্তির সাথে মোকাবেলা এবং মুখোমুখি হতেও তিনি কুন্ঠাবোধ করেননি।
(ঝ) সার্বজনিনতা বা বিশ্বমানবতার শরাফত (Universality of Global Humanity)
মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শরাফতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বিশ্বমানবতা বা মানবতার কল্যাণ। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মধ্যে ধর্মসাম্য প্রতিষ্ঠিত করা হলো মাইজভান্ডারী দর্শনের বিশেষ একটি তাৎপর্যময় দিক। মাইজভান্ডারী দর্শনের ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা সব কিছুরই ব্যাপ্তি হলো বিশ্বব্যপী। সারা বিশ্বের মানুষের কল্যাণ ও ঐক্যে মাইজভান্ডারী দর্শন বিশ্বাসী। আজ মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে যে অশান্তি ও নৈরাজ্য বিরাজ করছে তার প্রধান কারণ হলো অনৈক্য। যদিও সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব ইসলামের অন্যতম প্রধান আদর্শ, তা আজ মুসলিম দেশসমূহে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃপ্রতিম সহযোগিতা, সৌহার্দ পূর্ণ সম্পর্ক এবং ঐক্যই কেবল এনে দিতে পারে সারা বিশ্বে স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়ন।
অছি-এ-গাউসুল আ'যম ছিলেন জাতি, ধর্ম, বর্ণ নিরপেক্ষ। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর লোকের তাঁর কাছে অবাধ গমনের অনুমতি ছিল। তাঁর কাছে উচ্চ-নীচ, ধনী-দরিদ্র, হিন্দু-মুসলিম এরূপ কোন ভেদাভেদ ছিল না। সকল প্রকারের চরিত্রবান লোককে তিনি আদর যত্ন করতেন এবং মনোযোগ সহকারে তাদের দুঃখের কথা শ্রবণ করতেন। তিনি ছিলেন দুর্গত মানবতার অকৃত্রিম সেবক। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের সময় তিনি নানুপুর, লেলাং প্রভৃতি ইউনিয়নের দুর্গত লোকদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করেন। খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসার দ্বারা তিনি অনেক দুর্গতকে নিজের প্রত্যক্ষ সেবায় সুস্থ করে তোলেন। অনেক অনাথ বালক-বালিকা ও ভবঘুরে তাঁর আস্তানায় লালিত পালিত হয়ে ও শিক্ষা-দীক্ষা লাভ করে জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গরীব ও দুঃখী জনকে তিনি মুক্ত হস্তে দান করতেন। বাজারে যখন চড়াদামে দ্রব্য বিক্রয় হতো, তখন তিনি দরবার ষ্টোর থেকে ন্যায্য মূল্যে জনসাধারণের কাছে পণ্য বিক্রয়ের জন্য নির্দেশ দিতেন। আতিথেয়তায় তিনি ছিলেন অনন্য সাধারণ। তাঁর অপূর্ব আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে ১৯৫৯ সালে মার্কিন কৃষি উপদেষ্টা রবার্ট ডব্লিউ ফাউলার (Robert W. Fawler) লিখেছেন, “I am extremely happy to have been a guest in this home of the religious leader and to view the activities of a great festival as is taking place. We are appreciative of your wonderful hospitality.”
অর্থাৎ ‘আমি একজন ধর্মগুরুর বাড়ীর অতিথি হয়ে এবং একটি মহান উৎসবের কর্মকান্ড দেখে অতিশয় খুশী। আমি আপনার অভূতপূর্ব আতিথেয়তায় কৃতজ্ঞ’।
মানবতার কল্যাণের ক্ষেত্রে অছি-এ-গাউসুল আ'যমের ভূমিকা পর্যালোচনা করলে ইহা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি ছিলেন মাইজভান্ডারী শরাফতের মহান ধারক ও বিকাশধারী। সূর্য যেরূপ চিরভাস্বর, সারা বিশ্বের আনাচে কানাচে আলো ছড়িয়ে দেয়, অছি-এ-গাউসুল আ'যমও সেরূপ স্থান, কাল, পাত্র ভেদে সকল মানুষের কাছে মাইজভান্ডারী শরাফতের মহান শ্লোগান ‘মানবতার জয়গান’কে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
(ঞ) সমাজ সংগঠন বা প্রাতিষ্ঠানিক শরাফত (Social Organization or Institutional Structure)
সমাজকে সংগঠিত করা বা সমাজে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সৃষ্টি করা একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। মাইজভান্ডারী শরাফত তাই সমান সংগঠনের উপর গুরুত্ব আরোপ করে। সমাজ গঠনের জন্য প্রধানতঃ তিনটি উপাদান প্রয়োজনঃ (১) একটি আদর্শ, (২) সে আদর্শভিত্তিক মজবুত সংগঠন এবং (৩) সে আদর্শ বাস্তবায়নের উপযোগী নেতৃত্ব। অছি-এ-গাউসুল আ'যম স্রষ্টার মহান ইচ্ছাশক্তিতে বলীয়ান হয়ে সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সমাজের ঈপ্সিত সংস্কার সাধন করে গেছেন এবং মাইজভান্ডারী শরাফত সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বিনির্মাণ করে গেছেন। মনগড়া, ভূয়া রীতিনীতি ও আচার পদ্ধতিতে কুসংস্কারাচ্ছন্ন তরিকতপন্থীদেরকে কলূষ মুক্ত করে সত্যিকারের ইসলাম ও সুফীবাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে এবং পরস্পরের মধ্যে সদ্ভাব ও ঐক্য সৃষ্টির মানসে তিনি গ্রামে গঞ্জে “আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউসে মাইজভান্ডারী” নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে গেছে যা তরিকতপন্থী ভাইবোনদের আত্মিক-আধ্যাত্মিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
(ট) সমাজ কল্যাণমূলক কর্মকান্ড বা সামাজিক শরাফত (Social Welfare-Oriented Activities)
সমাজ কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করা একজন প্রকৃত মুমিনের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। মাইজভান্ডার দরবার শরীফের ইহাও একটি বিশেষ দিক। সমাজ ব্যবস্থাকে অধিকতর সুন্দর করার মহান অভিপ্রায়ে যাঁরা জীবন বাজী রেখে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়েছেন অছি-এ-গাউসুল আ'যম তাদের মধ্যে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন। তিনি সমাজের জন্য আজীবন প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে মাইজভান্ডার আহমদীয় উচ্চ বিদ্যালয়, ভান্ডার শরীফ আহমদিয়া প্রাইমারী স্কুল, নাজিরহাট আহমদিয়া আলীয়া মাদ্রাসা, নানুপুর গাউসিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা,সুফি সভ্যতা (জ্ঞান ভান্ডার)পাঠাগার, তফাজ্জ্বল মেমোরিয়ল লাইব্রেরী (সেখানে হযরত আলি (কঃ)-এর রচিত দীওয়ানে আলী, ইবনে আরবী (রঃ)-এর তফছির ও ‘ফছছুল হেকম’, মাওলানা তোরাব আলি কলন্দর রচিত ‘মতালেবে রশীদি’, মাওলানা রুমী (রঃ)-এর মছনবী শরীফ, পীরানে পীর দস্তগীর (কঃ) রচিত কসিদায়ে গাউসুস সাকলাইন প্রভৃতি অনেক দুষ্প্রাপ্য ও মহামূল্যবান গ্রন্থ সুরক্ষিত আছে) নাজিরহাট রেলওয়ে ষ্টেশনে ওরশ শরীফের যাত্রী ও ট্রেনের সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার্থে স্থায়ী শেড, এলাকার জনগণ ও দরবার শরীফের চিঠিপত্র আদান প্রদানের সুবিধার্থে ভান্ডার শরীফ পোস্ট অফিস, চৌমুহনী নতুন বাজার (ফটিকছড়ি), নাজিরহাট-মাইজভান্ডার শরীফ পাকা রাস্তা, শাহ আহমদ উল্লাহ (কঃ) নামের সাথে ‘শরীফ’ শব্দ সংযোজন করে মাইজভান্ডার শরীফ নামকরণের সরকারী অনুমোদন লাভ, গামারী তলা, মাইজভান্ডার শরীফ, কিফায়েত নগর, দক্ষিণ গোপালঘাট্টা, রায়পুর, দমদমা, পূর্ব আজিমনগার গ্রামসমূহের জমির মালিক-চাষীদের সমন্বয়ে ‘সর্ত্তা লেলাং প্রবাহন এলাকায় কৃষ্টি সমিতি প্রভৃতি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এ সকল প্রতিষ্ঠানসমুহ তাঁর প্রত্যক্ষ প্রচেষ্ট, উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শ্রীবৃদ্ধিকল্পে এবং বিভিন্ন কর্মকান্ডের মধ্যে শৃঙ্খলা বিধানের জন্যও তিনি মূল্যবান অবদান রেখে গেছেন। হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারী (কঃ) রওজা শরীফের সংস্কার, দরগাহ-এ-গাউসিয়া আহমদিয়া, মেহমানখানা, মঞ্জিলে হোসাইনী, বাগ-এ-হোসাইনী প্রভৃতিও তাঁর উল্লেখযোগ্য কীর্তি। এসব দৃষ্টান্ত থেকে ইহা সুপ্রমাণিত হয় যে, আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি অছি-এ-গাউসুল আ'যম একজন উচ্চ মর্গের সমাজ সেবক ও সংস্কারক ছিলেন।

মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের শরাফতের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ ও অছি-এ গাউসুল আ'যম এর অবদান: পর্ব ২

স্রষ্টার প্রতি তাঁর (অছি-এ গাউসুল আ'যমের) ছিল প্রগাঢ় আস্থা। যে কোন বিপদে আপদে ধৈর্য্য না হারিয়ে খোদার ইচ্ছার উপরই তিনি সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল ছিলেন। ১৯৬১ সনে চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালে উপর্যপুরি দু’বার অপারেশনে জীবনাশঙ্কা দেখা দিলেও তাঁর দুঃখ-বেদনা, ভয়-ভীতি না দেখে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকগণ বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে বলেছিলেন, “আপনার কোন মহাশক্তি আছে, না হলে এরকম লোক বাঁচতে পারে না”। প্রকৃতপক্ষে, ধৈর্য্য, সহিষ্ণুতা ও আল্লাহর উপর নির্ভরশীলতা হচ্ছে হযরত রাসূল করিম (দঃ)-এর অন্যতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। শত নির্যাতনের মাঝ দিয়ে মদিনার পথে হিজরতের সময় সওর পর্বত গুহার মধ্যে শত্রুবেষ্টিত অবস্থার সেই চরম সঙ্কটের মুখেও দয়াল নবী হযরত আবু বকর (রাঃ)-কে সম্বোধন করে বলেছিলেন, “আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়োনা। আমরা মাত্র দু’জন নই, সর্বশক্তিমান আল্লাহতালা আমাদের সাথে আছেন”।
(ঘ) পীরের অস্তিত্বে বিলীনতা বা বিধান ধর্মের শরাফত (Total Dedication to the spiritual guide)
হযরত খিজির (আঃ)-এর রহস্যময় জ্ঞান, হযরত দাউদ (আঃ)-এর অবলুপ্ত সুরের মোহিনী প্রকাশ, হযরত সোলায়মান (আঃ)-এর রাজকীয় ঐশ্বর্য, হযরত ঈসা (আঃ)-এর প্রেমের বাণী, বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (দঃ)-এর বেলায়তী শান আহমদী নামের যুগোপযোগী পদচারণা, প্রখ্যাত ছাহাবী হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ)-এর অনেক না-বলা কথা ও মহর্ষি বিপ্লবী ,মানসুর হাল্লাজ (রাঃ)-এর প্রেমের আবেশে তৌহিদী চিৎকার এবং সালমান (রাঃ)-এর বিদ্রোহী ভাষাকে অবলম্বন করেই হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারী (কঃ) মাইজভান্ডারী শরাফতের বীজ বপর করেছেন। মাইজভান্ডারী শরাফতের মূল কথা হল প্রেম। প্রেমের মাধ্যমে স্রষ্টার নৈকট্য অর্জন করতে হবে। মাশুকের জন্য আশেকের হৃদয়ে প্রেমের অগ্নিমিখা প্রজ্জ্বলিত করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,
“আমি রহস্যময় ছিলাম, ভালবাসাতে আত্মপ্রকাশ করলাম”। (হাদিসে-কুদসি)।
অছি-এ-গাউসুল আ'যম কেবলমাত্র হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারী (কঃ)-এর অছি ছিলেন না, তিনি ছিলেন হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারী (কঃ)-এর রহস্য এবং হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারী (কঃ) নামক মহাশক্তির প্রতিনিধি বা ছায়ামাত্র ছিলেন। প্রথম জীবনের এতিম অবস্থা, জাগতিক জীবনে নানা বাধা-বিপত্তি, দ্বন্ধ-সংঘাত সবকিছুর মুখোমুখি তিনি হয়েছেন এক মহা সত্যকে (মাইজভান্ডারী শরাফত) প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। তিনি তাঁর সকল জ্ঞান সম্পদ হযরত ছিদ্দিকে আকবর আবু বকর (রাঃ)-এর ন্যায় হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারী (কঃ)-এর জন্য উৎসর্গ করে গেছেন। হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারী (কঃ)-এর ধারক, বাহক ও অছি হিসেবে তিনি তাঁর (হযরত আকদাছে (কঃ)-এর ) জাহের ও বাতেন বাণী সমূহের সিন্দুক বা দরজা স্বরূপ ছিলেন, যেরূপ হযরত আলী (রঃ) হযরত রসূল করিম (দঃ)-এর জাহেরী ও বাতেনী এলেমের দরজা স্বরূপ ছিলেন। কিন্তু তাঁর জীবনের দিকে আলোকপাত করলে দেখা যাবে যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোথাও নেই। অথচ হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারী (কঃ)-এর প্রকাশ, প্রচার, কাজকর্ম, রীতিনীতি সবকিছুর মধ্যেই তাঁর অস্তিত্ব এক উজ্জ্বল সূর্যের ন্যায় দেদীপ্যমান।
(ঙ) শরীয়তের প্রতি আস্থাশীলতা বা বিধান ধর্মের শরাফত (Adherence to the Principles of Shariah)
কোরআন, হাদীস ও সুন্নাহর সাথে পরিপূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শরীয়তের বিধান মোতাবেক স্রষ্টার হুকুম আহকাম (যথা: কলেমা, নামায, রোজা, হজ্জ্ব, জাকাত ও অন্যান্য বিধি নিষেধ) মেনে চলা মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শরাফতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উল্লেখ্য যে, হযরত আকদাছ (কঃ) নিয়মিত নামাযে পাঞ্জেগানা আদায় করতেন এবং নফল নামায, কোরআন শরীফ তেলাওয়াত, রোজা পালন ও মোরাকাবা মোশাহেদাতে থাকতেন। নামায ও খোদা-স্মরণ মানুষকে আলোর সন্ধান দেয়। অন্তরের কালিমা বিদূরিত করে। লোভ ও মোহ থেকে বাঁচায়। পর নির্ভরতা দূরীভূত করে খোদা-নির্ভরতা জাগ্রত করে। আত্ম-সন্তুষ্টি এনে দেয়। খোদায়ী ইচ্ছার উপর সবকিছু সমর্পণ করার মনোভাব সৃষ্টি করে। ফলে আর কোন সমস্যাই তখন সমস্যা মনে হয় না। মহান আল্লাহ বলেন,
“হে বিশ্বাস স্থাপনকারী, তোমরা আল্লাহকে অধিকতর স্মরণে রাখ ও স্মরণ করবে; প্রভাতে ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা কর। তিনিও তাঁর ফেরশতাগণ তোমাদের উপর আশীর্বাদ করে থাকেন যেন তিনি তোমাদেরকে আলোকের দিকে বহির্গত করেন এবং তিনি বিশ্বাসীগণের প্রতি অনুগ্রহকারী”। (সুরা – আহজাব, আয়াত: ৪১-৪৩)
মহান আল্লাহ আরো বলেন,
“অতএব তোমরা আমাকেই স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণে রাখব এবং তোমরা আমার নিকট কৃতজ্ঞ হও এবং অবিশ্বাসী হয়োনা”। (সুর – বাকারা, আয়াত: ১৫২) ।
বিধান ধর্মের শরাফত প্রতিষ্ঠার ক্ষত্রে অছি-এ-গাউসুল আ'যমের অবদান অপরিসীম। অছি-এ-গাউসুল আ'যম ছিলেন আদর্শ নামাজী ও দ্বীনদার। সুফী মতবাদের ধারক ও বাহক হিসেবে তিনি আজীবন কোরআন ও সুন্নাহ তথা শরার পা’বন্দ ছিলেন। ছোটবেলা থেকে তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়া ও তাহাজ্জুদ নামাজসহ অন্যান্য নফল এবাদতে নিজেকে সর্বদা মশগুল রাখতেন। তিনি প্রায়সঃ রোজা রাখতেন। মুরীদের প্রতি তাঁর প্রথম উপদেশ ছিল-
“নামাজ পড়, রোজা রাখ, মিথ্যে বলনা, চুরি করনা, জ্বেনা করনা”।
সকলের নামায পড়ার সুবিধার্থে তিনি দরবার শরীফ মসজিদ, এবাদতখানা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। কোরআন তেলাওয়াত তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল।
(চ) সপ্ত পদ্ধতির বাস্তব প্রয়োগ বা নৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও আত্মশুদ্ধির শরাফত (Practical Application of the Seven Methods or Moral Control and Self-Purification)
নৈতিক উৎকর্ষ সাধনের জন্য উসূলে ছাবআ বা সপ্ত পদ্ধতির অনুশীলন হচ্ছে মাইজভান্ডারী শরাফতের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। আত্ম-নির্ভরশীলতা, অনর্থ পরিহার, স্রষ্টার ইচ্ছায় সন্তোষ, সংযম, পরদোষ পরিহার ও নিজ-দোষ ধ্যান, লোভ-লালসা থেকে মুক্তি, নির্বিলাস জীবন যাপন প্রভৃতি কর্ম পদ্ধতি অনুশীলনের মাধ্যমে ষড়রিপু থেকে মুক্তিলাভ হচ্ছে মানব মুক্তির অন্যতম প্রধান উপায়। হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারির নীতি চলাচলন,আদর্শ কর্ম পদ্ধতির উপর গবেষণা করে,সপ্ত-পদ্ধতির প্রসার ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অছি-এ-গাউসুল আ'যমের ভূমিকা অতুলনীয়। তিনিই সর্ব প্রথম সপ্ত-পদ্ধতির রূপরেখা লিখিত আকারে প্রকাশ করেন এবং উহার খুঁটিনাটি ব্যাখ্যা করেন। তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমেই সপ্ত-পদ্ধতি সাধারণের মাঝে পরিচিতি ও বিকাশ লাভ করে। তিনি হচ্ছেন সপ্ত-পদ্ধতির বাস্তব মডেল বিশেষ। সপ্ত-পদ্ধতির প্রতিটি কর্ম প্রণালী তিনি বাস্তবে অক্ষরে অক্ষরে পালন করে গেছেন। স্রষ্টার প্রতি তাঁর ছিল প্রগাঢ় ভক্তি। তিনি কঠোর সংযম সাধনা করতেন এবং সারা বৎসর নফল রোজা রাখতেন। মহান আল্লাহ বলেন,
“হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ। তোমাদের উপর রোজা বিধিবদ্ধ হলো যেরূপ তোমাদের পূর্ববর্তীগণের জন্য বিধিবদ্ধ হয়েছিল-যেন তোমরা সংযত হও”।(সুরা – বাকারা, আয়াত-১৮৩)।
তিনি চরম শত্রুকেও উদারতার সাথে গ্রহণ করতেন এবং শত্রু মিত্র নির্বিশেষে জীবনে কাউকে দুর্ব্যবহার করেননি। বিপুল ধন সম্পত্তির অধিকারী হয়েও তিনি ছিলেন সকল প্রকার লোভ লালসামুক্ত। তাঁর অন্তরে স্রষ্টার প্রেম ভালবাসা ছাড়া কোন প্রকার কামনা বাসনা ছিলনা যাহা বেলায়তে খিজরীর অন্তর্গত। মহান আল্লাহ বলেন,
“জেনে রাখ, তোমাদের ধনসম্পদ ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি বিড়ম্বনা ব্যতিত নহে এবং নিশ্চয় আল্লাহরই নিকট মহান প্রতিদান রয়েছে”। (সুরা-আনফাল, আয়াত:২৮)
তিনি ছিলেন সৎ কর্মানুরাগী। কর্মঠ ও সঞ্চয়ী লোকদেরকে তিনি ভালবাসতেন। তিনি মিতব্যয়ী ছিলেন এবং যে কোন সম্পদকে খোদার রহমত মনে করতেন এবং উহার সর্বাধিক ব্যবহার ও সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করতেন। তিনি পরিবার পরিজন ছেড়ে মনে জঙ্গলে গিয়ে বৈরাগ্য সাধনার মাধ্যমে মুক্তি তালাশ করাকে অপছন্দ করতেন। তিনি ছিলেন অতীব দয়ালু ও সহমর্মী। পশুপাখীদের প্রতিও তাঁর দয়া অবারিত ছিল। মোট কথা, সপ্ত-পদ্ধতির পরিপূর্ণ অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি নৈতিকতার সকল দিক দিয়ে চরম উৎকর্ষ অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন। নবী করিম (দঃ) তাই যথার্থাই বলেছেন, “আমার উম্মতের মধ্যে এমন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন লোকও আছেন যিনি গুণে, হিম্মতে, হেকমতে আমার সমকক্ষ”। হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারী (কঃ) তাই যথার্থই তাঁর আদরের পৌত্র ‘দেলা ময়নাকে’ উপলক্ষ করে বলেছিলেন, “নবাব হামারা দেলা ময়না হ্যায়। ফের আওর কোন নবাব হ্যায়?” অর্থাৎ “হযরত দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) নবাব। আর নবাব কে আছে?”

মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের শরাফতের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ ও অছি-এ গাউসুল আ'যম এর অবদান: পর্ব ১

মানব মুক্তি ও স্রষ্টার নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারী (কঃ) কর্তৃক প্রবর্তিত ও তাঁর মহান জীবন ধারায় প্রতিফলিত মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের মহান উল্লেখযোগ্য দিকগুলোকে নিম্নোক্তভাবে শ্রেণীবিভাগ করা যায়:
(ক) অর্গলমুক্ত ঐশী প্রেমবাদ কিংবা তৌহিদী শরাফত (Unchained divine love or total commitment to the oneness of almighty Allah)
(খ) আধ্যাত্মিকতা বা আধ্যাত্মক শরাফত (Spiritualism)
(গ) স্রষ্টার অস্তিত্বে বিলীনতা বা আত্ম সমর্পণের শরাফত (Total surrender to the Almighty Allah)
(ঘ) পীরের অস্তিত্বে বিলীনতা বা বিধান ধর্মের শরাফত (Total Dedication to the spiritual guide)
(ঙ) শরীয়তের প্রতি আস্থাশীলতা বা বিধান ধর্মের শরাফত (Adherence to the Principles of Shariah)
(চ) সপ্ত পদ্ধতির বাস্তব প্রয়োগ বা নৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও আত্মশুদ্ধির শরাফত (Practical Application of the Seven Methods or Moral Control and Self-Purification)
(ছ) নির্বিলাস সভ্যতার শরাফত (Simplicity of Life)
(জ) বৈষম্যহীনতা বা বিচার সাম্যের শরাফত (Lack of Discrimination or Judicial Equality)
(ঝ) সার্বজনিনতা বা বিশ্বমানবতার শরাফত (Universality of Global Humanity)
(ঞ) সমাজ সংগঠন বা প্রাতিষ্ঠানিক শরাফত (Social Organization or Institutional Structure)
(ট) সমাজ কল্যাণমূলক কর্মকান্ড বা সামাজিক শরাফত (Social Welfare-Oriented Activities)
(ঠ) রাজনীতি নিরপেক্ষতা বা অরাজনৈতিক শরাফত (Political Neutrality)
(ড) জ্ঞান-চর্চা বা শিক্ষামূলক শরাফত (Knowledge and Education)
(ঢ) কলূষমুক্ত সঙ্গীত বা স্বর্গীয় সুরের শরাফত (Divine Melody)
(ণ) প্রগতিশীলতা বা প্রগতিশীল শরাফত (Progressiveness)
মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শরাফতের সুরক্ষায় খাদেমুল ফোকরার অবদান
এখন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের মহান শরাফতের উপরোক্ত দিকগুলোর ক্ষেত্রে অছি-এ- গাউসুল আ'যম মুর্শিদে বরহক খাদেমুল ফোকরা হযরত মাওলানা শাহ সুফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ )-এর মহান অবদান সম্পর্কে মূল্যায়ন করার কিঞ্চিৎ প্রচেষ্টা চালাব :
(ক) অর্গলমুক্ত ঐশী প্রেমবাদ কিংবা তৌহিদী শরাফত (Unchained divine love or total commitment to the oneness of almighty Allah)
অর্গলমুক্ত ঐশী প্রেমবাদ বিশ্বমানবতার জন্য হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারী(কঃ)-এর একটি দূর্লভ অবদান। নবী করিম (দঃ)-এর নবুয়তের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছির খোদার একত্ব প্রকাশ করা। প্রভূর একত্বে সম্মিলিত হওয়াই হচ্ছে সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য। নবী করিম (দঃ) তাঁর আহমদী বেলায়তী শক্তি বলে মহা প্রভূর একত্বে মিলনের পথ আবিস্কার করেছিলেন এবং সে পথ অর্জনের পন্থা নির্দেশ করেছিলেন। মহা প্রভুর এ একত্বে মিলনের পথ হচ্ছে অর্গলমুক্ত ঐশী প্রেমবাদের পথ। অর্গলমুক্ত ঐশী প্রেমবাদ হচ্ছে পবিত্র কোরআন ও হাদীসের মেরুদন্ড ও সুক্ষ্ম উদ্দেশ্য। কলেমা তৈয়বা ও খোদাতা'য়ালার রহস্য জড়িত আহমদী বেলায়ত পদ্ধতি যা চিরন্তন ও সার্বজনীন। হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারী (কঃ) এর পূর্ববর্তী ওলীগণ ধর্মীয় বিধি-নিষেধের মধ্যস্থতায় সম্প্রদায়গতভাবে উক্ত রহস্য আংশিকভাবে উদঘাটন করতে সক্ষম হলেও জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ধর্মীয় বিরোধ পরিহার পূর্বক বাধাহীন মুক্তির দ্বার উদঘাটন করতে সক্ষম হননি। হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারী (কঃ)ই উক্ত বাধাহীন বেলায়তের একমাত্র দ্বার উন্মোচক ও বাধ্যবাধকতার পরিণতিকারী নিরপেক্ষ তৌহিদবাদ তথা সকল ধর্ম ও তরিকতের গন্তব্য স্থানে পৌছাবার একমাত্র সহজতম উপায়। ইহা যগসম্মত খোদার তৌহিদালোক যা নিরপেক্ষ ও সার্বজনীন এবং আহমদী বেলায়তী শক্তির স্বরূপ যা আভ্যন্তরীন ভক্তি-বিশ্বাস ও স্বীকৃতিকে অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।
অছি-এ- গাউসুল আ'যম এই অর্গলমুক্ত ঐশী প্রেমবাদের সত্যিকার স্বরূপ জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য সুপ্রসিদ্ধ “বেলায়তে মোতলাকা” গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং নিরপেক্ষ তৌহিদের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। সকল মানুষকে নিরপেক্ষ তৌহিদের সামিয়ানা তলে সমবেত হবার জন্য তিনি আহবান জানান।
(খ) আধ্যাত্মিকতা বা আধ্যাত্মক শরাফত (Spiritualism)
খোদার একত্বে মিশতে হলে আধ্যাত্মিক প্রেরণা শক্তির একান্ত প্রয়োজন। ইহা বেলায়ত শক্তি অর্জনের একমাত্র অমূল্য সম্পদ। এ দুর্লভ সম্পদ ও শক্তি অর্জনের জন্য রেয়াজন ও কঠোর সাধনা একান্ত প্রয়োজন। সূফী পরিভাষঅ মতে ইহাকে নেছবতে ছকিনা বা স্থায়ী খোদা-সম্পর্ক নামে আখ্যায়িত করা যায়। এই স্থায়ী খোদা সম্পর্কের অভাবে নাছুত মোকামের পার্থিব স্বভাবপ্রবণ মানুষ স্রষ্টার প্রভুত্ব ভুলতে বাধ্য হয়। খোদা-সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সৎ জ্ঞান ও প্রেরণা শক্তির প্রয়োজন। সৎ জ্ঞান ও প্রেরণা শক্তির অভাবে মানব হুদয়ে খোদার প্রতি বিশ্বাস, অনুরাগ ও ভীতির সঞ্চার হয়না এবং সত্যিকার ইসলাম থেমে মানুষ দূরে সরে পড়ে। এই প্রেম-প্রেরণা ও সৎ জ্ঞানের অভাবে মানুষ বিচার বুদ্ধি হারিয়ে অতি বিলাসী হয়ে উঠে এবং অহঙ্কারী ও অত্যাচারী হয়ে নিজেকে ধ্বংসের পথে টেনে নেয়। তাই হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারী (কঃ) বিশ্ববাসীকে ধ্বংসের কবল থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে খোদায়ী প্রেম প্রেরণায় বেলায়তী শক্তি অর্জনপূর্বক খোদার সাথে নৈকট্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রেম-প্রেরণা (হাল ও জজবা) উন্মুক্তভাবে দান করতেন। তাঁর কাছে যে কেউ উপস্থিত হতো, সে তাঁর আধ্যাত্মিক প্রেরণা বা ফয়েজ রহমত থেকে কখনও বঞ্চিত হত না। অনেকের এত্তেহাদী ফয়েজ অর্জনের সাথে সাথে কাশফ ও জ্ঞানচক্ষু উন্মিলিত হয়ে যেত এবং খোদার গোপন রহস্য জ্ঞান অর্জনপূর্বক বহু ওলীগণে উৎপত্তি ও বিকাশ সাধিত হয়।
অছি-এ-গাউসুল আ'যম ছিলেন এ জজবাতি প্রেম-প্রেরণার ধারক ও বাহক। তিনি কঠোর সংযম ও রেয়জত সাধনা করতেন এবং জজবাতি প্রেম-প্রেরণায় বিভোর হয়ে গভীর রাতে খোদার জিকিরে মশগুল থাকতেন।
(গ) স্রষ্টার অস্তিত্বে বিলীনতা বা আত্ম সমর্পণের শরাফত (Total surrender to the Almighty Allah)
স্রষ্টার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন, চূড়ান্তভাবে আত্মসমর্পণ এবং সৃষ্টার নৈকট্য অর্জনই হচ্ছে মাইজভান্ডার দরবার শরীফের মহান শরাফতের প্রধান লক্ষ্য। স্রষ্টার নৈকট্য অর্জন করতে হলে স্রষ্টা কর্তৃক নির্ধারিত পন্থায় জীবন যাপন করা উচিৎ এবং লাগামহীনভাবে দুনিয়ার প্রতি মোহান্ধ না হয়ে খোদার ইবাদত বন্দেগী করা উচিৎ। বস্তুতঃ পক্ষে স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির মিলনই হচ্ছে সৃষ্টির মূল লক্ষ্য। স্রষ্টার ইবাদতের মাধ্যমেই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব, যেহেতু ইবাদত বা স্রষ্টার আরাধনা হচ্ছে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে সংযোগ তথা সেতু বন্ধনের প্রধান চাবিকাঠি। প্রকৃতপক্ষে, পীরের চেহারা মোবারক স্মরণে রেখে অন্তরের মধ্যে সন্তোষ সৃষ্টির মাধ্যমে খোদার ইচ্ছাশক্তির উপর নির্ভরশীল হওয়া এবং প্রতিনিয়ত খোদা-স্মরণে মশগুল থাকা প্রতিটি ওলী-প্রেমিক জনগণের একান্ত কর্তব্য। মানুষের জীবন সংকীর্ণ ও ক্ষণস্থায়ী। সুতরাং সময়মত স্রষ্টা-প্রেম জাগ্রত না হলে জীবনে সিদ্ধিলাভ করা সম্ভব হয় না। উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত সাধনা সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় জীবন নদী এক পর্যায়ে স্রোতহীন হয়ে অজস্র শৈবালধামে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে।
খাদেমুল ফোকরা (গরীবের বন্ধু, সম্বলহীনের খাদেম) অছি-এ-গাউসুল আ'যম হযরত দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) কারও নিকট কোন কিছুর জন্য মুখাপেক্ষী না হয়ে স্রষ্টা প্রদত্ত আত্মশক্তিতে নির্ভর করে নিজ সামর্থ ও বিচারবুদ্ধি মোতাবেক সমস্ত সমস্যার সমাধান করতেন। তিনি খোদার ইচ্ছার নিকট নিজ স্বার্থ ও বুদ্ধিকে নত করে ধৈর্য্যের সাথে সকল ব্যাপারে প্রতীক্ষা করতেন।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখযোগ্য যে, একবার তাঁর দোকানের জন্য শহর থেকে ক্রয় করা মালামাল নৌকাসহ ডুবে যাওয়ার সংবাদ শুনে তিনি এতটুকু বিচলিত না হয়ে বলেছিলেন, “আল-হামদু-লিল্লাহ”। সুফী পরিভাষায় এরূপ অভ্যাসকে ফানা আনিল এরাদা বলা হয় এবং এই গুনজ প্রকৃতিকে তছলিম বা রজা বলা হয়। এ প্রসঙ্গে কোরআন পাকের বাণী প্রাধান্যযোগ্য-
“তুমি বল, নিশ্চয় আমার আরাধনা ও আমার উৎসর্গ এবং আমার জীবন ও আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য”। (সুরা-আনয়াম, আয়াত-১৬২)। কোরআন পাকে আরও বলা হয়েছে-“এবং আমরা কেন আল্লাহর প্রতি নির্ভর করব না? এবং নিশ্চয় তিনি আমাদেরকে আমাদের পথসমূহ প্রদর্শন করেছেন এবং তোমরা আমাদেরকে যে যন্ত্রণা দেবে তা অবশ্যই আমরা সহ্য করব এবং আল্লাহর উপরই নির্ভরশীলগণের নির্ভর করা উচিৎ”।(সূরা-ইবরাহিম, আয়াত-১২)।

গাউসুল আযম প্রসঙ্গ

(আলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ সহিদুল হক মাইজভাণ্ডারী 
,মোন্তাজেম,গাউসিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল,মাইজভান্ডার দরবার শরিফ,চট্টগ্রাম)
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে প্রমাণিত হই যে,গাউসুল আযম অভিধায় সর্বপ্রথম বিভুষিত জন হলেন কুতবে রব্বানী,মাহবুবে সুবহানী সাইয়েদুনা গাউসুল আযম শায়খ মুহিউদ্দিন আব্দুল কাদির জিলানি রাঃ।"ফিরুযুল লুগা-ত নামক শব্দকোষে বিবৃত," গাউসুল আযম গাউসুস সাকালাঈন;শায়খ আব্দুল কাদির জিলানী (বড় পির সাহেব) এর উপাধি'।গাউসুল আযম বাগদাদি (রাঃ')র জীবনিগ্রন্থে সমূহে সর্বাধিক বিশুদ্ধ-প্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য প্রাচীনতম "বাহজাতুল আসরার ওয়া মা'দিনুল আনওয়ার"।এ গ্রন্থের ৫৫ পৃষ্ঠায় গাউসুল আযম জিলানী (রাঃ)'র ইঙ্গিতপূর্ণ বর্ণনায় উল্লিখিত তাঁর সমকক্ষ একজন সাথীর অনন্য বেলায়ত বৈশিষ্ঠ্যের বিবরণ এবং গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (রাঃ)'র জীবনি ও কারামত,বেলায়তে মোতালাকা সহ বহু তথ্যসুত্রে বর্ণিত সরাসরি এরশাদ-"রাসুলুল্লাহ (দ)'র হস্ত মুবারকে দু'টি তাজ ছিল;একটি তাজ আমার মাথায় পড়িয়েছেন,অপরটি আমার ভাই পিরানে পির সাহেব আব্দুল কাদির জিলানী সাহেবের মাথায় পরানো হয়' সমন্বয়ে প্রমাণিত যে,উক্ত দুই মহান সত্ত্বা স্বতন্ত্র গাউসুল আযম এবং উভয়ের এ উপাধি কাসিম-এ নেয়ামত হুজুর করিম দঃ প্রদত্ত।হযরত সাইয়েদুনা শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (রাঃ০'র গাউসুল আযম উপাধি কাসিম-এ নেয়ামত শাহানশাহে রেসালত কর্তৃক বন্টিত।এটিকে অন্য কারো দেওয়া উপাধি বলার অবকাশ নেই।এ প্রসঙ্গে ইমামে আহলে সুন্নাত গাজি শেরে বাংলা (রহঃ) লিখেছেন," আয শাহান শা-হে আউলিয়া-মুযদাহ চুঁনা-মাসমু-'গুদাহ'
অর্থাৎ,"তাঁর এ (গাউসুল আযম) উপাধি শাহানশাহে মদিনা (দ)'র মহান দরবার থেকে এসেছে।এমন সুসংবাদ আউলিয়ায়ে কেরাম দের (আলোচনায়) শুনা গিয়েছে।'
কুতুবুল আকতাব,কুতুবে আলম,কুতুবে যমান,গাউসে যমান তথা পারিভাষিক কুতুব মাত্রই সমগ্র সৃষ্টিকূলে ক্ষমতাবান।আর "গাউসুল আযম" শব্দদ্বয়ের বিশ্লেষণাত্মক তাৎপর্যে সাধারণ গাউসদের তুলনায় বিশেষ শ্রেষ্ঠ গাউস বা বিশিষ্ট গাউস বুঝায়।এ মহা মর্যাদা যুগশ্রেষ্ঠ ওলিয়ুল্লাহ বিভূষিত নন বরং সাইয়েদুনা শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী (রাঃ) এবং অনুরুপ মর্যাদা ও ক্ষমতা সম্পন্ন অপর ক্ষণজম্মা মহাপুরুষের বেলায় এ "গাউসুল আযম" অভিধা শ্রেষ্ঠ গাউস অর্থে প্রযোজ্য।আল ফথাতুল মক্কীয়াহ ২য় খন্ড ৭৩ং অধ্যায় ১৬ পৃষ্ঠা ও মসনবি শরিফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ শরহে হযরত বাহরুল উলুমের ৬৪ পৃষ্ঠায় বর্ণনায় উক্ত বিষয়টি সুস্পষ্ট।উক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে,গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (রাঃ) কে পূর্বাঞ্চলের গাউসুল আযম ও কুতুবুল আকতাব বলার কোন অবকাশ নেই।হযরত শেরে বাংলা (রহঃ)'র উক্তি-
"হযরত শাহ আমদুল্লাহ কাদেরী,
কুতুবুল আকতাবে বেলা-দে মাশরিকী
যী-সবব ঊ গাউসুল আযম দর বেলা-দে মাশরিকী
ফায়যইয়া-বে রওযাহ আশ জিন ও পরী ও আদমী"
অর্থাৎ," হযরত শাহ আহমদুল্লাহ কাদেরি (রাঃ) ,পূর্বাঞ্চলের অধিবাসি কুতুবুল আকতাব।
এ কারণেই (নবি দঃ এর হস্ত মুবারকস্থ দু'টি তাজের একটি তাঁর শির মুবারকে স্থাপিত বিধায়) তিনি (অনন্য দু'য়ের এক স্বতন্ত্র) গাউসুল আযম।পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত তাঁর রওযাহ শরীফ থেকে জিন পরি ও মানব্জাতি ফয়য অনুগ্রহের দান লাভকারি হয়।(তাই তিনি গাউসুস সাকালাঈন)।
বেলাদ অর্থ শহর-নগর-গ্রামাঞ্চল বুঝায়,আর মাশরিক অর্থ পূর্ব,অতএব "বেলা-দে মাশরিক অর্থ পূর্বাঞ্চল এবং 'ইয়া-ইয়ে নিসবতি' বা পরিচিত জ্ঞাপক "ইয়া" যোগে "বেলাদে মাশরিকী'র অর্থ পূর্বাঞ্চলের অধিবাসি"।যেমন-গাউসে বাগদাদী বলতে বাগদাদ শহরের গউস না বুঝিয়ে বাগদাদের অধিবাসি গাউস বুঝায়,সাইয়েদ মক্কী বলতে মক্কার অধিবাসি সরদার বুঝায় ,অনুরুপ কুতুবুল আকতাবি বেলাদি মাশরিকী বলতেও পূর্বাঞ্চলের অধিবাসি কুতুবুল আকতাব বুঝাবে।এর বিপরীতে বিকৃত অনুবাদের মাধ্যমে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (রাঃ) শান সংকোচ ও আল্লামা শেরে বাংলা (রহঃ) জ্ঞানগত গভীরতা প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়ায় কখনো কাম্য নয়। [ তথ্য সুত্র: গাউসুল আ'যম জিলানি (র:)'র সংস্কার ও ত্বরিকা ৪৯,৯৩,৯৪ পৃষ্ঠাংশ ]
{পরিশেষে দেখুন,রেখেছিলেন।গাউসুল আ'যম মাইজভাণ্ডারীর বাণী থেকে তা পরিস্কার বুঝা যায়।তিনি বলেছেন," আমি একদিন আমার ভাই পিরানে পির সাহেবের সাথে কা'বা শরিফে ডুকে দেখতে পেলাম রাসুল করিম সাল্লাল্লাহে আলাইহে ওয়া সাল্লামের পবিত্র সিনা মুবারক এক অসীম দরিয়া।আমার উভয়ে উহাতে ডুব দিলাম।পরে দেখি দরজায় রক্ষিত আমার দারুচিনি গাছের লাঠিটি হারিচান্দ চুরি করে তাঁর নিজের চাকের কাঠি বানিয়েছে"(সুত্রঃ জীবনি ও কেরাম গ্রন্থ ২০০ পৃষ্ঠা প্রকাশ মে ১৯৮৭ইং,বেলায়তে মোতালাকা ৮২ পৃষ্ঠা দৃষ্টব্য)
তদ্রুপ শায়খ শাহ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভি রহঃ তাঁর “গাউসুল ওয়ারা” নামক জীবনি গ্রন্থে বলেন,অন্তিম সময়ে গাউসে পাক রাদিঃ স্বলিখিত “মাকতুবাত” এ লিখেন,” খুদ্বনা বাহরান লাময়াক্বিফ আলা সাহিলিহিন আম্বিয়া” অর্থাৎ,’ আমি এমন এক সাগরে ডুব দিয়েছি যার উপকূলে আম্বিয়াগণের দাড়াবার সৌভাগ্য নসিব হয়নি” ।হযরত শেখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভি রহঃ উক্ত গ্রন্থে এ প্রসঙ্গে বলেন যে, “মুজতাহিদগণের দৃষ্টিতে স্বয়ং হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ই মহান সমুদ্র।অর্থাৎ,এর ব্যাখ্যা হল-আমার (গাউসে পাক)জাহেরি-বাতেনি,শরিয়ত-ত্বরিকতের অনুসরণের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণতা এবং হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি অনুসরণের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণতা এবং হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অস্তিত্বে জায়গায় পরিপূর্ণ বিলীন (কামেল ফানা হুয়া) হওয়া সম্ভব হয়েছে ।(সুত্র শেখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভি রহঃ’গাউসুল ওয়ারা’ পৃষ্ঠা ২৪(উর্দু) ,প্রকাশনায়-মাকতুবাতে জামে নূর,৪২২ মিঠা মহল জামে মসজিদ দিল্লী,ভারত)
কুরানে পাকে উল্লেখ,আল্লাহ বলেন, “হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহে আলাইহি ওয়া সাল্লাম,আমি কি তোমার জন্য তোমার বক্ষ উম্মুক্ত করে দেইনি?”।(সুত্রঃ সুরা আলম নাশরাহ(ইনশিরাহ),আয়াতঃ১)
সুতরাং উক্ত বাণি সমুহের আলোকে স্পস্ট গাউসে মাইজভাণ্ডারী এবং গাউসে জিলানি উভয়েই,রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহে আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছদর মুবারকে ডুব দিয়ে ইলমে দ্বীন,মারেফত,কামালত,বেলায়ত,আজমিয়ত, সহ বেলায়তের উচ্চ আসন তথা বেলায়্তে ওজমা হাসিল করেছেন}

মারাজাল বাহরাইন চেরাগে গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারি বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত শাহসুফি সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি ক: এর জীবন-পর্বঃ (৭)

হযরত অছি-এ-গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর বাণী সমূহ এবং আশেক ভক্তের উক্তি ও স্বপ্নের বর্ণনা।
হযরত অছি-এ-গাউসুল আযম শাহসূফি সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর বাণী সমূহঃ
১) বোয়ালখালী থানার খিতাপচরের ভক্ত ছৈয়দুর রহমান বড় মিঞা আসলে পাগল কিনা জানতে চাইলে পিতা বলেন, “লোকেরা যে রকম মাথা -খারাপ মনে করছে তেমন নয়, আমার বড় মিঞা আল্লাহর পাগল। সাধনা বলে যেখানে উঠেছেন তার উপরে ইনসানিয়াতের (মানবতার) আর কোন স্তর নাই”। (সাধনার সব ধাপ পেরিয়ে অধ্যায়)
২) ১৯৭৬ সালে খোশরোজ শরীফ উদযাপনের প্রস্তুতি পর্বে জ্ঞানভান্ডার হযরত মাওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারীর অনুমতি চাইলে বলেন, “মানবতার সর্বোচ্চ স্তরে আমার বড় মিয়ার অবস্থান। তিনি বাবাজান কেবলার মসরকের অলি। মাওলানা শাহ্সুফি সৈয়দ গোলাম রহমান মাইজভান্ডারী (ক.) ও মতিউর রহমান শাহ্ সাহেবের (র.) খোশরোজ তো হয়; তাই আমার বড় মিঞার খোশরোজও হতে পারবে”। (মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত অধ্যায়)
আশেক ভক্তের উক্তি ও স্বপ্নের বর্ণনাঃ
১) চট্টগ্রাম জেলার রাউজান কাগতিয়ার হযরত হারেছ শাহ্ (র.) প্রকাশ হারেছ ফকির কামেল ব্যক্তি হিসেবে সে অঞ্চলে বহুল পরিচিত; মাজারও সেখানে। তিনি একবার চৈত্রমাসী ওরশ শরীফে এসে শাহানশাহ্ বাবাজানের সাথে দেখা করেন। বাবাজানের নির্দেশে তিনি বেশ কিছু সময় আমাদের সাথে অফিস ঘরে অবস্থান করেন। দরবার পাকের আদব সম্পর্কে তিনি আমাদেরকে সতর্ক করে বলেন, “আমি নির্দেশিত হয়ে এ মহান অলির দরবারে এসেছি। তাঁর সম মর্যাদার কোন অলি বর্তমান জগতে নাই। আমিও এ বিশ্বঅলির কৃপাপ্রার্থী”। (আয়নায় সমকালের পীর ফকির অধ্যায়)
২) চট্টগ্রাম জিলার ফটিকছড়ি থানার বাবুনগর আজিজুল উলুম (ওহাবী) মাদ্রাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহাম্মদ মূসা সাহেবের বড় ছেলে মাওলানা আবদুল কুদ্দুছ মাইজভান্ডারী (র.) হযরত মাওলানা গোলামুর রহমান (ক.) প্রকাশ বাবা ভান্ডারীর কৃপাদৃষ্টিতে তাঁর মত কথাবার্তা বন্ধ করে জীবনের সত্তর বছর বয়সেও শ্রেষ্ঠ রাসূল প্রেমিক হযরত ওয়ায়েজ করণী (রা.) এর মত গলায় একটা গাঁঠুরী নিয়ে পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়াতেন। আলাহর গুপ্ত জ্ঞানের অধিকারী এই অলি-আল্লাহ্ বহুবার বলেছেন, “বংশগত পবিত্রতা ও অসাধারণ ইবাদত রিয়াজতে আমার মামু সাহেব হযরত জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী আলাহর এমন নৈকট্য লাভ করেছেন যেখানে আগামী এক হাজার বছরে অন্য কাউকে দেখা যাচ্ছে না। নিঃসন্দেহে তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অলি”। (প্রচণ্ড ক্ষমতার অধিকারী অলি অধ্যায়)
৩) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়া উপজিলার পদুয়া নিবাসী প্রবীণ আলেম ও অধ্যাত্মজ্ঞানী মাওলানা সামশুদ্দিন আহমদ চাঁটগামী প্রকাশ বুড়া মৌলবী সাহেব এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “শাহানশাহ্ হক ভান্ডারী এমন এক উচ্চ মর্যাদার অলি আলাহ্, যাঁর ইচ্ছার উপর যুগের অন্য কামেল অলিদের ভালমন্দ নির্ভরশীল। তাঁর বেলায়তি দপ্তরের এমন ক্ষমতা যে, যে কোন চোরকে তিনি মুহূর্তে আবদাল বানাতে পারেন”। (প্রচণ্ড ক্ষমতার অধিকারী অলি অধ্যায়)
৪) মাইজভান্ডার শরীফ রওজা সংলগড়ব মাঠে লাখো জনতার মহাসমাবেশ। সকলের অধীর অপেক্ষা, কবে আসবেন। মাঠের পূর্ব দক্ষিণ কোণায় অপরূপ সাজানো এক মঞ্চ। হঠাৎ মঞ্চে এসে উপস্থিত হলেন হযরত গাউসুল আযম মাইজভান্ডারী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) সাহেব। তাঁর হাতে স্বর্ণ ও হীরা খচিত একটা অপূর্ব সুন্দর তাজ। কিছুক্ষণ পর হযরত জিয়াউল হক শাহকে সেখানে আনা হলে হযরত সাহেব কেবলা নিজ হাতেই সে তাজ তাঁর মাথা মোবারকে পরিয়ে দেন। -উপস্থিত জনতা আলাহু আকবর ধ্বনিতে আকাশ পাতাল মুখরিত করে তোলেন। এ স্বপ্ন দেখেন আলহাজ্বা সৈয়দা মোজাহের রাব্বি (হযরত মাওলানা সৈয়দ মছিউল্লাহ মির্জাপুরী (কঃ) এর কন্যা) ১৯৬০ সালে। (মহান তিনে মহাশক্তি অধ্যায়)
পরিশেষে বলা যায়, উপরোক্ত সকল ঘটনা, উক্তি বা মন্তব্য ও স্বপ্নের বাস্তব প্রমাণ দেখা যায় শাহানশাহ বাবাজানের একটি কালাম দ্বারা, তা হল “I AM THE POWER”
বাবাজানের ফয়জে করম সকলের উপর বর্ষিত হউক। আমিন।।

মারাজাল বাহরাইন চেরাগে গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারি বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত শাহসুফি সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি ক: এর জীবন-পর্বঃ (৬)

হাসানবাগ থেকে হক মঞ্জিলঃ হাসানবাগ মাইজভান্ডার দরবার শরিফে রাজফুল গোলাপের একটি বাগানের নাম,প্রতি ভোরে এ বাগানের ফুলে সাজানো হত হযরত গাউসুল আযম মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী কঃ কেবলা কাবার পবিত্র রওজা ও হুজরা শরিফ।এ বাগানের প্রতিষ্ঠাতা অছি-এ-গাউসুল আযম সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী কঃ।আপন বড় ভাই হযরত সৈয়দ মীর হাসান কঃ সাহেবের নামে বাগানের নামকরণ করেন ভবিষ্যৎবাণী অনুসারে ঐ ঐ পৌত্রটি (সৈয়দ মির হাসান কঃ) গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর পূর্বে কিশোর বয়সে (১৯০৫ খ্রিঃ) ওফাত প্রাপ্ত হন।১৯৭৮ সালেম চট্টগ্রাম শহরে পাথরঘাটার দরবার ইলেকট্রিকের মালিক টুলুবাবু কে শাহানশাহ বাবাজী 'সৈয়দ হাসান মঞ্জিল) নামে একখানা ইলেকট্রিক ছোট বাতি দিয়ে সাইনবোর্ড করে দিতে বললে একদা সেটা তৈরি করে দরবারে নিয়ে যান।বাবাজানের নির্দেশে সেটা কাছারি ঘরের উপর লাগান হয়।১৯৮৫ সালে শাহানশাহ বাবাজী কক্সবাজার হোটেলে সায়মনে মানি অর্ডারে টাকা পাঠাতে এবং সৈয়দ ওবায়দুল আকবর সাহেবকে 'হক মঞ্জিল' ঠিকানা লিখতে বললে,আবার 'গাউসিয়া হক মঞ্জিল' নামে পুনঃ প্রতিস্টা করা হয়।১৯৮৮ সালের ২৬ আশ্বিন শাহানশাহ বাবাজী কঃ দেহত্যাগ করলে পরের দিন বৃহষ্প্রতিবার বিকেল সোয়া চারটায় উনার প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।জানাযার নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘন্টা পূর্বেই মাইজভান্ডার শরিফের প্রায় দুই বর্গ কিলোমিটার জায়গা লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে।পশ্চিমে 'গাউসিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল' থেকে পূর্বে প্রাইমারি স্কুল মাঠ পর্যন্ত তিল ধরার ঠাই ছিল না।নির্ধারিত সময়ে প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ও লক্ষ লক্ষ অনুরক্তের জনস্রোত সমবেত হতে থাকে 'গাউসিয়া হক মঞ্জিলে'।অবস্থা
র পরিপ্রেক্ষিতেই বাধ্য হয়ে আবার ও জানাযার ব্যবস্থা করা হয়।বিকেল শোয়া চারটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা অবধি পর পর তিন জামাতে লক্ষ লক্ষ মানুষ শরিক হয়।চট্টগ্রামের বহুল প্রচারিত 'আজাদি এবং পূর্বকোন সহ বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় ভাষ্যমতে এ ছিল স্মরণ কালের বৃহত্তম নামাজে জানাযা,জানাযা সমাপ্তি শেষে 'গাউসিয়া হক মঞ্জিলে' উনার দেহ মোবারক সমাহিত হয়।বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলার সৌন্দর্য সুষমায় প্রখ্যাত স্থপতি আলমগীর কবিরের স্থাপত্য নকশায় এই মহান আধ্যাত্মক সাধকের কালজয়ী রওজা শরিফ নির্মাণ কাজ হয়।তিনি বলেছেন," আমার এই দরবার প্রাচ্যের বাইতুল মোকাদ্দাস-আল্লাহর ঘর,সকল জাতির মিলন কেন্দ্র"।সত্য সুন্দরের দিশারি এই মনজিল অযুত মানুষের মিলন-মেলায় রুপ পেয়েছে।
শাজরায়ে নছব (পবিত্র বংশ তালিকা)
১) হযরত আহমদ মুজতবা মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
২) হযরত খাতুনে জান্নাত মা ফাতেমা তুজ জাহরা আলাইহিস সালাম ও হযরত শেরে খোদা মওলা আলী আলাইহিস সালাম
>>>>>>>>>>>>>>>>>­>>>>>>>>>>হাসানি ধারা<<<<<<<<<<<<<<<<­<<<<<<<<<<<<<<
৩) হযরত সাইয়্যেদেনা হাসান আলাইহিস সালাম
৪) হযরত সৈয়দ হাসানুল মাছান্না (রাঃ)
৫) হযরত সৈয়দ আবদুল্লাহ মাহজ (রাঃ)
৬) হযরত সৈয়দ মুসা আল্‌-জুন (রাঃ)
৭) হযরত সৈয়দ আবদুল্লাহ সানী (রাঃ)
৮) হযরত সৈয়দ মুসা আল্‌-সানী (রাঃ)
৯) হযরত সৈয়দ আবু বকর দাউদ (রাঃ)
১০) হযরত সৈয়দ মুহাম্মদ শামসুদ্দীন জাকারিয়া আল্‌-মোরেছ (রাঃ)
১১) হযরত সৈয়দ ইয়াহিয়া জাহেদ (রাঃ)
১২) হযরত সৈয়দ আবু আবদুল্লাহ আল্‌-জিলী (রাঃ)
১৩) হযরত সৈয়দ আবু সালেহ মুসা জঙ্গী (রাঃ) [হযরত সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানী (কঃ)’র পিতা]
>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>হোসাইনি ধারা<<<<<<<<<<<<­<<<<<<<<<<<<<<<<
হযরত ইমাম সৈয়দ হোসাইন আলাইহিস সালাম
হযরত সৈয়দ ইমাম যাইনুল আবেদীন (রাঃ)
হযরত সৈয়দ ইমাম বাকের (রাঃ)
হযরত সৈয়দ ইমাম জা’ফার সাদেক (রাঃ)
হযরত সৈয়দ মূসা আল কাজেম (রাঃ)
হযরত সৈয়দ আলী-উর-রেজা (রাঃ)
হযরত সৈয়দ আবু আলাউদ্দীন মোহাম্মদুল জাউয়াদ (রাঃ)
হযরত সৈয়দ কামালুদ্দীন ঈসা (রাঃ)
হযরত সৈয়দ আবুল আতা আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ)
হযরত সৈয়দ মাহ্‌মুদ (রাঃ)
হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ (রাঃ)
হযরত সৈয়দ আবু জামাল (রাঃ)
হযরত সৈয়দ আবদুল্লাহ্‌ সাওমাঈ যাহেদ (রাঃ)
হযরত সৈয়দা উম্মুল খায়ের ফাতেমা (রাঃ)
[হযরত সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানী (কঃ)’র মাতা]
১৪) হযরত গাউসুল আযম সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানী আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী কাদ্দাসা সির্‌রাহুল আযিয
১৫) হযরত সৈয়দ আবদুর রাজ্জাক (রাঃ)
১৬) হযরত সৈয়দ আবু সালেহ নজর (রাঃ)
১৭) হযরত সৈয়দ মুহাম্মদ জামালুদ্দীন (রাঃ)
১৮) হযরত সৈয়দ মুহাম্মদ দাউদ (রাঃ)
১৯) হযরত সৈয়দ জালালুদ্দীন (রাঃ)
২০) হযরত সৈয়দ বাহাউদ্দিন (রাঃ)
২১) হযরত সৈয়দ তাজুদ্দিন (রাঃ)
২২) হযরত সৈয়দ হামিদ উদ্দিন শাহ্‌ গৌরী (রাঃ)
[মাজারঃ হামিদগাঁও, পটিয়া, কাঞ্চননগর, চট্টগ্রাম]
২৩) হযরত সৈয়দ আবদুল কাদের (রাঃ)
২৪) হযরত সৈয়দ আতা উল্লাহ্‌ (রাঃ)
২৫) হযরত সৈয়দ তৈয়ব উল্লাহ্‌ (রাঃ)
২৬) হযরত সৈয়দ মতি উল্লাহ্‌ (রাঃ)
২৭) হযরত গাউসুল আযম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্‌ মাইজভাণ্ডারী কাদ্দাসা সির্‌রাহুল আযিয
হযরত গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ)’র এক পুত্র সৈয়দ ফয়জুল হক ফানায়ে ওয়াসেল এবং এক কন্যা সৈয়দা আশরাফুন্নেসা (প্রকাশ তোতা ময়না)
উনার দুই পুত্র (১) সৈয়দ মির হাসান মাইজভাণ্ডারী কঃ এবং (২) সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী কঃ।
সৈয়দ দেলাওর হোসাইন কঃ এর ৫ পুত্র
(১ম পুত্র)শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী কঃ
শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী কঃ এর একমাত্র পুত্র
রাহেবারে আলম সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী মাঃ জিঃ আঃ

মারাজাল বাহরাইন চেরাগে গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারি বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত শাহসুফি সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি ক: এর জীবন-পর্বঃ (৫)


শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী কঃ'র স্বভাব ও প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে,তিনি
একজন মহান ওলির সকল বৈশিষ্ঠের বাস্তব রুপকার।তিনি ছিলেন কুসুমের মত পবিত্র,ইহলৌকিক ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধশালী, অতুলনীয় দাতা,অনন্ত সুখের অধিকারি,নির্ভীক,জ্ঞানি মহান সম্মানের অধিকারি।তিনি চম্বুক সদৃশ আধ্যাত্মিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।উনার গরম বা ঠান্ডা সব ধরণের বাণী,বচন ও শিক্ষা আদর্শ জীবন গরে তোলার জনয,ঈমান ও বন্দেগীর জন্য দুর্লভ  বিশেষ।শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াল হক মাইজভাণ্ডারী কঃ'র সুমহান ব্যাক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে 'কাহলিল জিব্রানের' ভাষায় বলি,"you are one of those gifted souls in whose hands Lord has placed viol to soothe the spirit with heavenly music and bring his fellowmen close to Life and the Beauty of Life.You are torch to light us on our way,a sweet longing in our hearts,and a revelation of the divine in our dreams."
(আপনি সেই গুণান্বিত রুহসমুহের অন্যতম,যাদের হাতে প্রভু তুলে দিয়েছেন বীণা,ঐশী সংগীতে জীবনের যন্ত্রণা উপশম করার জন্য এবং চতুষ্পার্শ্বের সবাইকে জীব ও জীবনের সৌন্দর্যের সান্নিধ্যে আকর্ষণের জনয।আপনি আমাদের চলার পথে আলোকনকারি মশাল,আমাদের হৃদয়ে মধুর আকাঙ্ক্ষা এবং আমাদের স্বপ্নে ঐশী প্রত্যাদেশ)[কানলিল জিব্রান]
শাহানশাহ বিশ্বঅলি হযরত  সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী কঃ এর  বাণীঃ
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জাহের বাতেন আলম সমূহের পরিচালক পদে নিযুক্ত এবং গাউসিয়ত ও কুতুবিয়ত উভয় মর্যাদা অর্জনের মাধ্যমে (উত্তরাধিকার রুপে) পদবান হয়ে বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) বিভিন্ন সময়ে আল্লাহর হুকুমে যে কালাম সমূহ করেছেন, তার কিয়দাংশ জীবনী শরীফে উল্লেখ আছে এবং এগুলোর কিছু কালাম সকলের কাছে বোধগম্য আবার কিছু কালাম রহস্যময়। নিম্নে কালামগুলো উল্লেখ করা হল-
১) আমাকে চিন? আমি হযরত কেবলা কাবা, স্বয়ংসম্পূর্ন, কোন অংশে কম নই।
২) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম গাউসিয়তের দুই তাজের একটি হযরত আবদুল কাদের জিলানী (ক.), অন্যটি হযরত মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.) কে দিয়েছেন, যেটি পরে আমি পেয়েছি।
৩) আল্লাহ ও রাসূলের মধ্যে কি কোন ভিন্নতা আছে? আমরা দু’জনের মধ্যে নাই; হাসান মিয়া আল্লাহর মস্ত বড় অলি।
৪ )আমার হাসান মিয়া আল্লাহর মস্ত বড় অলি।, মানুষের কল্যানের জন্য এসেছেন, একটু ইজ্জত সম্মান করবেন।
৫) খাওয়ার জন্য শিশুরা এখন একটু দুধ পাচ্ছেনা। আমার হাসান মিঞা না বাঁচলে দুনিয়াতে কোন শিশু বাঁচবেনা।
৬) আল্লাহর অলিরা মানুষের রূহানী পিতা। তাই বাবা বলে ডাকা উচিৎ। নতুবা ফয়েজ রহমত পাওয়া যায়না।
৭) আমি মারা যাইনি, আল্লাহর অলিরা মরেনা।
৮) আমার কল্‌বে আল্লাহ ছাড়া কিছু নাই, আমরা নজরানার কাতর নই, কাজের প্রয়োজনে নানা স্থানে অবস্থান করি।
৯) মক্কা শরীফ, মদিনা শরীফ, বাগদাদ শরীফ, আজমির শরীফ আমাদের পুরান বাড়ী।
১০) আমার দরবার প্রাচ্যের বায়তুল মোকাদ্দেস-আল্লাহর ঘর, সকল জাতির মিলন কেন্দ্র।
১১) আমার রওজা নির্মানের জন্য যারা এক টাকা কিংবা একটি নুড়ি পাথরও দেবে তা রওজা শরীফে লাগবে। তাদেরকে আমি দুনিয়া হাশর নশর সবখানে সাহায্য করবো।
১২) কষ্ট করে অতদূরে কিসের জন্য যাচ্ছেন? দুনিয়াতে চাওয়ার এমন কি আছে আমরা দিতে পারিনা?
১৩) দরবার হতে কিছু পেতে হলে ভক্তি শ্রদ্ধায় মানতে হয় এবং সাধ্য অনুসারে নিয়ত মানত করে চাইলেই আশা পূর্ণ হয়।
১৪) চাকুরীর প্রমোশন, ব্যবসার উন্নতি, নিঃসন্তানের সন্তান লাভ, পারিবারিক শান্তি, দুঃসহ রোগমুক্তি, মান-সম্মান, সম্পদ-দুনিয়াবী (পার্থিব) সব কিছুর জন্য একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে আমার ঘেরা বেড়াকে বলে গেলেও কাজ হবে।
১৫) দুনিয়াতে এমন কি আছে আমরা দিতে পারিনা? আপনি কি কিছু কম পেয়েছেন?
১৬) লোকেরা আমার কাছে আসে- কার সন্তান হয়না, চাকুরীর প্রমোশন কোথায় ঠেকে গেছে, কার ব্যবসা মন্দা, কোন রোগ চিকিৎসায় সারে না, এসব প্রতিকারের আশায়। আল্লাহ্ তলবী কেউ আসেনা।
১৭) গ্রামে গঞ্জে শহরে এলাকায় দায়রা শরীফ গড়ে তুলুন। আমি সেখানে ২০ ওয়াট, ৪০ ওয়াট ও ৬০ ওয়াট বাল্ব দেবো।
১৮) নিজের ভিতর দৃষ্টি দাও, বহির্জগতের চেয়েও অপরূপ সুন্দর দৃশ্যাবলী দেখতে পাবে।
১৯) মাইজভাণ্ডার শরীফে একটা মোমবাতি জ্বলছে, সে মোমবাতির আলোয় সব জায়গা আলোকিত। সে বাতির আলোয় মানুষেরা পোকার মত উড়ে উড়ে পড়ছে।
২০) এ দুনিয়া তো মুসাফিত খানা! হুজরা শরীফ নির্দিষ্ট কোন জায়গা নয়। আওলিয়ারা এক এক সময় এক এক স্থানে বিরাজ করেন।
২১) মঙ্গলের জন্যই তো আল্লাহ দেশ-দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন। অমঙ্গল হবে কেন? দেখছেন না আল্লাহর রহমত অবিরত বর্ষিত হচ্ছে!
২২) ভয়, বিশ্বাস ও আদবের সাথে যারা এই দরবারের ঘেরার মধ্যে প্রবেশ করবে, সকলে মুরিদ।
২৩) এই দরবারে ভক্তিক্ত বিশ্বাসে যারা আসে সবাই মুরিদ।
২৪) একটি আর্জেন্ট তরিকা নিলাম। আমি যে কাজটা করি কড়া ভাবেই করি এবং তাতে উপকার আসে।
২৫) এ বিল্ডিং (শান্তি কুন্জ) এর সবখানে আমি থাকবে। এটা ডি.সি. অফিস- ডিবিশনাল কমিশনার অফিস। ইন্টারন্যাশনাল ডিবিশনাল মার্শাল ল’ অফিস।
২৬) আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখব। আমার এ করুণাধারা জীবন মরণ হাশর পর্যন্ত।
২৭) আমার তরিকা দুই পয়সার নয়, কোটি কোটি গুন বড়।
২৮) আমাকে বুঝতে হলে কুরআন দেখ।
২৯) রাহমাতুল্লিল আলামীন রাসূলের রহমতের সীমা জুড়ে আমার বেলায়তি কর্মক্ষমতা।
৩০) আমার দরবার আন্তর্জাতিক প্রশাসন অফিস, যেখান থেকে এই বিশ্ব পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত।
৩০) এ বিশ্বের ৫শ কোটি মানুষ আমিই তো চালাই।
৩১) এই বিশ্বের কোথায় কখন কি হয়েছে, হচ্ছে, হবে সব আমার জানা আছে।
৩২) আকাশের উপরে বসে আমি সৃষ্টির কাজকর্ম দেখি; উপরের দিকে আল্লাহর সাথে কথা বলি।
৩৩) আমার দরবার আন্তর্জাতিক সামরিক আইন প্রশাসন অফিস। দুনিয়ার সবকিছু আমি ভেঙ্গেচুরে ঠিক করি।
৩৪) মাইজভাণ্ডার শরীফ হায়াতের ভাণ্ডার, রিজিকের ভাণ্ডার, দৌলতের ভাণ্ডার, ইজ্জতের ভাণ্ডার, সেখানে কোন কিছুর অভাব নাই।
৩৫) ভাণ্ডারী যেদিকে তাকায়, যাদের দিকে তাকায়, তাদের কি কোন অসুবিধা পারে?
৩৬) কাজের জন্যই জগত জীবন ও আল্লাহ-রাসূলের বিধান। যে কোন ভাল কাজ আল্লাহর ইবাদত।
৩৭) কোর্ট ফি ছাড়া কি আদালত মামলার আর্জি গ্রহণ করে? নিজের জন্য নয়, টাকা দেওয়া নেওয়া করি মানুষের প্রয়োজনে।
৩৮) সব টাকা ভাল নয়, তাই পুড়তে হয়।
৩৯) এ টাকা আপনার নয়; আল্লাহর টাকা, আপনার কি টাকা! বুঝতে চেষ্টা করুন, নতুবা আমি মারবো।
৪০) সব টাকা ভাল নয়, তাই পুড়তে হয়।
৪১) পকেটে এক টাকা নাই, লাখ লাখ টাকার গল্প করে এমন লোক থেকে দূরে থাকবে।
৪২) মনে রাখবেন, পরস্পর সহযোগিতা ছাড়া সমাজে কেউ একা বাঁচতে পারেনা।
৪৩) লতা কি গাছ ছাড়া উঠতে পারে? আল্লাহ কি বান্দা ছাড়া থাকতে পারে?
৪৪) পিতা-মাতা চালক নয় – সাথী। চালক আল্লাহ, আমরা আছি না?
৪৫) ধনী-গরীব কোন কথা নয়, সবাই মানুষ, মানুষে মানুষে প্রীতিভাব থাকা প্রয়োজন।
৪৬) এটাই আমাদের নীতি, কেউ খারাপ করলেও তাদের ভাল করা।
৪৭) A man can not live in society without co-operation.
৪৮) মানুষের সেবা করাও আল্লাহর এবাদত।
৪৯) দরবারে হিন্দু-মুসলমান কোন ভেদাভেদ নাই। সব এক আল্লাহর সৃষ্টি।
৫০) আল্লাহ জন্ম গ্রহণ করেন না এবং কাউকে জন্মও দেননা। অথচ তিনিই তো জন্মদাতা-সৃষ্টিকর্তা, সৃষ্টির এ রহস্য কয়জনে বুঝে জী।
৫১) মহব্বতের লোকজনদের দেখা শুনা না করলে মহব্বত মরে যায়।
৫২) রূহের মত মহব্বত (ভালবাসা)ও আল্লাহর নূর, রূহ যেমন দেখা যায়না মহব্বতও তেমনি অদৃশ্য। রূহ দেহের সাথে, মহব্বত মানুষসহ সকল কিছুর সাথে সম্পর্কিত।
৫৩) আমরা কি টাকা রোজগার করতে এসেছি? টাকা-কড়ি দুনিয়া পূজার জন্য মানুষের সৃষ্টি হয়নি। টাকা পয়সা জীবনকে কলুষিত করে; আল্লাহর সম্পর্ক ভুলিয়ে রাখে। অসৎ উপায়ে অর্জিত সম্পদ মাত্রই কলুষিত।
৫৪) মানুষ আমার কাছে আসে টাকার জন্য, চাকুরীর জন্য, ব্যবসার উন্নতির জন্য, রোগ থেকে মুক্তিক্ত ইত্যাদি দুনিয়াবী লাভের আশায়। ওসব পার্থিব ব্যাপারে কি এত কাছে আসতে হয়? গেটের বাইর হতে বাতি একটা জ্বালিয়ে আমার ঘেরা বেড়াকে বলে গেলেও কাজ হয়ে যায়। আল্লাহর খোঁজে, হেদায়তের জন্য কেউ আসেনা।
৫৫) কৌশলে কঠোর কঠিন কাজও সহজে করা যায়।
৫৬) নট টাইম, উই ওয়াচ্ মুভমেন্ট- সময় নয়, আমরা গতিকেই পর্যবেক্ষণ করি।
৫৭) মাইজভাণ্ডার ইজ এন ওশান, ডোন্ট থিংক ইট আদার ওয়াইজ। (যেমন তেমন ভেবোনা, মাইজভাণ্ডার এক অনন্ত সাগর)
৫৮) জ্ঞানের যে সাধনা মনে উদারতা ও চরিত্রে দৃঢ়তা আনে সেটাই সটিক জ্ঞান।
৫৯) শিশুরা মাসুম, আল্লাহর অলি।
৬০) শিশু-কিশোরদের দরবারে আনা নেওয়া ভাল। এতে তারা আদব-আখলাক বুঝ-জ্ঞান দয়া রহমত পাবে।
৬১) ওবা নামাজ পড়বেন। ভাত খেলে নামাজ পড়তে হয়।
৬২) নিয়মিত নামাজ রোজায় অভ্যস্থ হলে আয় বৃদ্ধি, রোগশোক মুক্তি ও দেহমন সুস্থ থাকে।
৬৩) হালাল খাও, নামাজ পড়, আল্লাহ আল্লাহ জিকির কর, সব সমস্যা মিটে যাবে।
৬৪) নামাজ আল্লাহর হিকমত। নামাজ না পড়লে হিকমতের ক্ষতি হয়।
৬৫) নামাজ পড়বেন, সমস্যা থাকবেনা।
৬৬) হজ্বের টাকায় দুঃস্থ মানুষের সেবা হজ্বে আকবর।
৬৭) মিয়া! পুলসিরাত দৌলতছে নেহী- ঈমানছে পার হো চেকতি।
৬৮) সূর্য কবে ঊঠে গেছে, ওহাবী শিবির কিছুই করতে পারবে না।
৬৯) ওহাবী আলেমদের পিছনে নামাজ পড়বেন না, তাদের ঈমান নাই।
৭০) আল্লাহর সৃষ্টি বড় বৈচিত্রময়, সৃষ্টি অবলোকন করছি। সৃষ্টিকে অবলোকন করবেন, তাতে জ্ঞান হয়।
৭১) ভাণ্ডারী কোথাও বিনা প্রয়োজনে যায়না; সৃষ্টির কল্যাণে নানা স্থানে ঘুরি ফিরি। জাহের বাতেন জিয়ার হুকুমত।
৭২) সে তো চাকর ছেলে, সে কি রাষ্ট্র চালাবে? রাষ্ট্র তো আমিই চালাই।
৭৩) হে বিশ্ব মুসলিম! আমার দিকে তাকাও! বিশ্ব মুসলমানদের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মুসলিম লীগ (মুসলিম ঐক্য) গড়তে হবে।
৭৪) আমার একটা প্রশাসন আছে, যেখান থেকে এ বিশ্ব পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত।
৭৫) আমার দরবার আন্তর্জাতিক সামরিক আইন প্রশাসন অফিস, আমি ভেঙ্গে চুরে সব ঠিক করি।
৭৬) গাউসুল আ'যম  মাইজভাণ্ডারীর এদেশ গরীব নয়, ধনী।
৭৭) আমি এখানে (মক্কা শরীফ) ও মাইজভাণ্ডার শরীফ উভয় স্থানে থাকি।
৭৮) এক মূহুর্তে জগতকে পানি করে আবার বানাতে পারি, এমন ক্ষমতা আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন।
৭৯) I AM THE POWER.
(চলবে)

মারাজাল বাহরাইন চেরাগে গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারি বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত শাহসুফি সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি ক: এর জীবন-পর্বঃ (৪)


শাহানশাহ বাবাজানের জীবনের অনেক কেরামত প্রসিদ্ধ এবং অবাক করা,তারমধ্যে একটি অন্যতম কেরামত তুলে ধরছি;" তেলবিহিন গাড়ি চলে"
চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ির আজিমনগরের নাছির আহমদ দীর্ঘ তিনবছর ব্যাপী হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর গাড়ির ড্রাইভার ছিলেন।তিনি বলেন,বিভিন্ন সময় হক ভান্ডারি নির্দেশে তেল ছাড়া শত শত মাইল  গাড়ি চালনা করেছি।একবার পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ির ময়ুলখিলস্থ উনার কৃষি খামারে যাচ্ছিলাম।মাইজভান্ডার দরবার শরিফ থেকে ৭ মেইল দূরে বিবিরহাট পেরিয়ে তেল ফুরিয়ে যায়।উনাকে তেলের কথা জানানো হলে তিনি বলেন," এমনে চলবে,তুমি চালিয়ে যাও"। উনার নির্দেশ  মতো গাড়ি চালাতে শুরু করলাম।তেলশূন্য জীপটা চালিয়ে সেখান থেকে ৮ মেইল দূরে ধুরং নবি পার হতে তিনি বললেন," এখান থেকে পেট্রোল ট্যাংকে পানি ভরে নাও"।আমি নির্দেশ পালন করলাম।সে পানিতেই গাড়ি ৩০ মেইল চালালাম।কোন অসুবিধে হয় নি।তবে কি পানিতে গাড়ি চলার কোন শক্তি আছে?
আরেকবার কক্সবাজার যেতে বললে জানালাম,ট্যাংকে মাত্র এক গ্যালন তেল আছে,তেল নিতে হবে।তিনি বললেন-"চালাও"।তখন তিনি অধিক  জজব হালে ছিলেন।ভয়ে ভয়ে স্টার্ট করে চালাতে লাগলাম।পথিমধ্যে কোন তেল না নিয়ে আসা-যাওয়া ১৯২ মেইল দীর্ঘ পথ গাড়ি নির্বিঘ্নে চলেছে।এ ধরণের আরো অনেক ঘটনা রয়েছে।একবার কারযোগে ১৪ গ্যালন তেলের সাহায্যে সাড়ে পাচশত মাইল ভ্রমণ করেছেন।আরেকবার মাত্র ১ গ্যালন তেলের সাহায্যে চট্টগ্রাম শহর থেকে কক্সবাজারে আসা যাওয়া করেছিলেন।'
মুক্তি দিশারী হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী কঃ ,আমরা সকলেই জানি;" কিরামাতুল আউলিয়া হাক্কুন" আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল দঃ এর নৈকট্য লাভ করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই আলাহর প্রিয় বান্দাগণের সান্নিধ্যে থাকতে হবে,কেননা আল্লাহতা'য়ালা পবিত্র কুরানে ইরশাদ করেছেন,-" হে ঈমানদার গণ! আল্লাহকে ভয় করতে থাক এবং প্রতিপালকের প্রতি ওসিলা তালাশ কর এবং তাঁর পথে জিহাদ কর,যাতে করে তোমরা সফলকাম হও (সুরা মায়েদাঃ পারাঃ৫ রুকুঃ৬) এ আয়াতে করিমা থেকে বুঝা গেল যে,আমলসমূহ ছাড়াও আল্লাহতা'য়ার প্রিয় বান্দাগণের ওসিলা তালাশ করা অপরিহার্য।

‘‘রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম গাউসিয়াতের দুই তাজের একটি হযরত আবদুল কাদের জিলানী (ক.), অন্যটি হযরত মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.) কে দিয়েছেন, যেটি পরে আমি পেয়েছি’’ – শাহানশাহ বাবাজানের কালাম
গাউসুল আ'যম হজরত মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর তরিকত ও বেলায়তের যোগ্য উত্তরাধিকারী হলেন বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ)।
শাহানশাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) উনার সমসাময়িক কোন অলি আল্লাহর কাছ থেকে ফয়েজ লাভ পূর্বক বিশ্বঅলি পদে পদবান হন নাই। অছিয়ে  গাউসুল আ'যম হজরত সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর কাছে  গাউসুল আ'যম  মাইজভাণ্ডারী (কঃ) যে আমানত শাহানশাহ বাবাজানের জন্য রেখেছিলেন, ঐ আমানত গ্রহন করেই শাহানশাহ বাবাজান বিশ্বঅলি’র পদে পদবান হন।
বিশ্বঅলি’র পদে পদবান হওয়ার স্বপক্ষে হযরত  গাউসুল আ'যম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ও হযরত বাবা ভাণ্ডারী (কঃ) এর পবিত্র কালাম ও ঘটনা সমূহ, যা শাহানশাহ বাবাজানের জীবনী শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে।
১) হযরত গাউসুল আ'যম  মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর জন্মের ১০০ বছর পর ১৯২৮ সালে অছি-এ- গাউসুল আ'যম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর সংসারে তিন শাহজাদীর আগমনের পর আগমন ঘটে প্রথম শাহজাদার। সপ্তম দিবসে আকিকা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় এবং শাহজাদার নাম রাখা হয় “সৈয়দ বদিউর রহমান”। এই অনুষ্ঠানের পর শাহজাদার পিতাকে স্বপ্নে হযরত  গাউসুল আ'যম  মাইজভাণ্ডারী (কঃ) বলেন,
“শিশুর নাম রাখুন জিয়াউল হক”
পরদিন পুনঃ অনুষ্ঠান আয়োজন করে দুটো গরু জবেহ করে শাহজাদার নাম রাখা হয় জিয়াউল হক। জিয়া শব্দের অর্থ আলো এবং হক শব্দের অর্থ সত্য। সত্যের আলো বহনকারী দূত সৈয়দ জিয়াউল হক। সত্যের আলোর প্রকাশস্থল সৈয়দ জিয়াউল হক। সত্যের আরেক নাম পরম করুণাময় রাব্বুল আলামীন।
[“মিরাজী বার্তাবাহী মহাদূত” অধ্যায়ের আলোকে]
২) একুশ দিনের শিশু শাহজাদা সৈয়দ জিয়াউল হক অসুস্থ, মৃত প্রায়। শাহজাদার মাতা শোকে পাথর হয়ে গেছেন, সবাই উদ্বিগ্ন। এমন সময় উপস্থিত হলেন শাহাজাদার বড় নানী সৈয়দা রাবেয়া খাতুন। শাহজাদার এমন অবস্থা দেখে শাহজাদাকে কোলে নিয়ে শাহজাদার পিতা হযরত অছি-এ- গাউসুল আ'যম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর কাছে গিয়ে বলেন, “চলুন তো বাবা মাওলানা সাহেবের (হযরত বাবা ভান্ডারী কঃ) নিকট গিয়ে দেখি, কিছু হয় কিনা”। তিনি শাহজাদার পিতা উত্তর দেন, “পুত্রের জীবন ভিক্ষার মত সামান্য কিছুর জন্য আমি তাঁর নিকট যাব না। ইচ্ছা হলে আপনি যেতে পারেন”। তখন সময়টা ছিল সকাল বেলা। হযরত বাবা ভান্ডারী (কঃ) তখন গাউসিয়া আহমদিয়া মনজিলের দক্ষিণে পুরান হুজরায় থাকতেন। শাহজাদাকে কোলে নিয়ে সৈয়দা রাবেয়া খাতুন উপস্থিত হলেন হযরত বাবা ভাণ্ডারী (কঃ) কদমে। তিনি আরজ করেন, “হযরতের বংশের বাতি নিভে যায় আর আপনি চাদর মুড়ি দিয়ে আরাম করছেন? আপনি না লক্ষ লোকের হাজত রওয়া মুশকিল কোশা! আপনার সম্মুখে গাউসুল আযম মাইজভান্ডারীর বংশের বাতি নিভে গেলে তাঁকে কি জবাব দেবেন? হাশর ময়দানে আল্লাহ্ ও রাসুলকে কি করে মুখ দেখাবেন?” হযরত বাবা ভাণ্ডারী (কঃ) এর কোন সাড়া না পেয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠ তিনি আবার বলেন, “লক্ষ লক্ষ কাঁটা বিঁধে যখন পাহাড় থেকে এসেছিলেন, আমিই তুলেছিলাম সব কাঁটা। গরম পানিতে রক্ত-পুঁজ ধুয়ে সেবা শুশ্রুষায় সুস্থ করেছিলাম। প্রতিদান কিছুই তো চাই নাই। এখন আমার দাবি এই ছেলের জীবন ফিরিয়ে দিতে হবে”। দয়া প্রার্থীর এমন আবেদন সাড়া দিয়ে হযরত বাবা ভাণ্ডারী (কঃ) চাদর সরিয়ে ডান হাত বাড়ালেন পানি ঢালার জন্য। শাহজাদাকেকে জলধারায় রেখে সাত কলসী পানি ঢালার পর ইশারা করেন পানি ঢালা বন্ধ করতে। কিন্তু শাহজাদার এখনো নিশ্চুপ হয়ে আছেন। এরপর হযরত বাবা ভাণ্ডারী (কঃ) পবিত্র হাত মোবারক নিংড়ে দু’তিন ফোঁটা পানি শাহজাদার মুখে দিলেন। শাহজাদা আস্তে আস্তে চোখ মেলে তাকালেন। সৈয়দা রাবেয়া খাতুনেরর চোখে নেমে আসে আনন্দ অশ্রুধারা। অবরুদ্ধ কণ্ঠে একবার শুধু বলেন, “আল্লাহর হাজার শোকর”। [“আল্লাহর হাজার শোকর” অধ্যায়ের আলোকে]

৩) তাহার বড় সন্তান শাহ ছৈয়দ মৌলভী জেয়াউল হক ছাহেব বর্ত্তমানে যিনি আধ্যাত্মিক প্রেরণায় বিভোর আছেন। বি এ পরীক্ষা দেওয়ার সময় তিনি হজরত বাবাজান কেবলা কাবার আধ্যাত্মিক সুনজরে পড়েন। প্রেরণাধিক্যে ক্রমান্বয়ে তিনি আহার নিদ্রা একবারেই ত্যাগ পান। কিছু দিনের মধ্যে যেন তিনি উম্মাদের মত হইয়া গেলেন। উহা তাঁহার মস্তিষ্ক বিকৃতি রোগ মনে করিয়া-অনেক প্রকার চিকিৎসা করা হইল। কোন প্রকার পরিবর্ত্তন না দেখিয়া সকলই ব্যাকুল হইয়া পড়িলেন। দিন দিন তাঁহার প্রেরণা আরও বাড়িতে লাগিল। একদিন এমতঅবস্থা হইয়া গেল যে, তাঁহার মাথার উপর অনেক পানি ঢালার পরও শান্ত অবস্থা ফিরিয়া আসিল না। ইহাতে তাঁহার পিতা ছাহেব বিশেষ ভাবে চিন্তাশীল হইয়া পড়িলেন। বড় সন্তানের এরূপ অবস্থা অথচ কোন ঔষধ খুঁজে পাইতেছেন না। এক রাত্রে তিনি চিন্তিত অবস্থায় বিশ্রাম করিতেছিলেন, হঠাৎ দেখিতে পাইলেন, হজরত ছাহেব কেবলা তাহার পার্শ্বে আসিয়া বলিতেছেন, “আপনি উদগ্রীব হইয়াছেন কেন? আমার ক’বা অর্থাৎ জুব্বাটী তাঁহার গায়ে পরাইয়া দিন”। তিনি তাড়াতাড়ী আসিয়া হজরতের স্মৃতি কামড়া হইতে ক’বাটী তালাশ করিয়া নিলেন এবং ক’বাটী তাঁহার গায়ে পরাইয়া দিয়া তিনি আপন হুজুরায় বিশ্রাম করিতে আসিলেন। তাহার একটু তন্দ্রা আসিয়াছে, এমতাবস্থায় তাঁহার উক্ত সন্তান আসিয়া তাঁহার হুজরায় দরজা খুলিরে চেষ্টা করিলেন। তিনি উঠিয়া তাঁহাকে দরজা খুলিয়া দিলেন। তিনিও তাহার পার্শ্বে বিছানায় শুইয়া পড়িলেন। তাঁহার এমন নিদ্রা আসিল যে, সারা রাত্র গত হইয়া পর দিনের সন্ধ্যা পর্য্যন্ত ঘুমাইয়া রহিলেন। ঘুম হইতে উঠিয়া দেখিলেন, তাঁহার অবস্থা প্রায় শান্ত। তাহাকে স্নান ও আহারান্তে পুনঃ বিশ্রাম করিতে দিলেন। এইবারও তিনি সারারাত্র ও পরের দিনের ৯টা পর্য্যন্ত ঘুমে বিভোর হইয়া রহিলেন। সেই দিন হইতে দেখা গেল; তিনি সম্পুর্ণ ভাল ও শান্ত। কিছু দিনের পর পুনঃ তাঁহার প্রেরণাধিক্য দেখা দিল। তাঁহার পিতা ছাহেব বিশেষ চিন্তিত হইয়া গেলেন। দেখিতে পাইলেন, জনাব মৌলানা নুরুচ্ছফা নামক হজরতের এক প্রিয়তম ছাহেবের কশ্ফ খলিফা দরবার শরীফের আসিয়া তাঁহার সাক্ষাতে গেলেন এবং বলিতে লাগিলেন, “হুজুর! গত রাত্রে হজরত আকদছ আমাকে দেখা দিয়া নির্দেশ দিলেন, মিঞা! আপনি আমার মিঞাকে বলুন তিনি পেরেশান কেন? আমি প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করিতেছি; আপনি তাঁহাকে বলিয়া দেন যে, জেয়াউল হক আমিই”। ইহা দর্শনে আমি ক্ষণ-কাল বিলম্ব না করিয়া নির্দ্দেশ পালনে আপনার খেদমতে আসিয়াছি। এই ঘটনার পর তাহারা প্রত্যেকে দৃঢ়রূপে বুঝিতে পারিলেন যে, ইহা আধ্যাত্মিক প্রেরণাধিক্য মাত্র। [গাউসুল আজম হজরত মাওলানা শাহসূফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.) জীবনী গ্রন্থের (লেখক-মৌলানা মহাং ফয়েজ উল্লাহ ভুঁইয়া (গোল্ডমেডালিষ্ট) সীতাকুন্ড, প্রথম প্রকাশ-মার্চ্চ ১৯৬৭ ইংরেজী) একত্রিংশ পরিচ্ছেদে “হজরতের কালাম ও ক’বা মারফত প্রভাব বিস্তারে বিস্ময়কর কেরামত” আধ্যায়ের “দ্বিতীয় ঘটনা” শিরোনামে নিম্নোক্ত ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে]
 ৪) শাহানশাহ বাবাজানের অত্যধিক ভাব-বিভোরতার কোন পরিবর্তন না দেখে হযরত বাবা ভান্ডারী (কঃ)’র প্রখ্যাত খাদেম সহর আলী প্রকাশ লক্ষ্মীর বাপ আবেদন জানালে স্বপ্নে হযরত বাবা ভান্ডারী বলেন,
“আমি জিয়াউল হক মিঞা ও সামশুল হুদা মিঞাকে আমার পাঠশালায় ভর্তি করেছি। ওসব তুই বুঝবি না”। [মহান তিনে শক্তি” অধ্যায়]
৫) তৎকালে যোগাযোগের সুব্যবস্থার অভাবে সুদূর দাঁতমারা গ্রামে বিবাহ অনুষ্ঠানে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে বিয়ের পূর্বরাত্রে বংশধর সৈয়দ আবু তাহের সাব-রেজিষ্ট্রারকে হযরত গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) স্বপ্নে বলেন,
“জিয়াউল হককে আমি তোমাদের জন্য বাতি জ্বালাচ্ছি”। [মহান তিনে শক্তি” অধ্যায়]
৬ মাঘ মাসের দুই তারিখ, ষোল জানুয়ারী ১৯৬৬ সাল। হযরত  গাউসুল আ'যম মাইজভাণ্ডারী (কঃ)স্বপ্নে তাঁর পিতাকে নির্দেশ দেন,
“জিয়াউল হক মিঞার আমানত তাঁকে অর্পণ করুন”
৯ মাঘ, তেরশ তিয়াত্তর বঙ্গাব্দ। ওরশ শরীফ উপলক্ষে দেশ-বিদেশ দূর-দূরান্ত হতে বহু লোক এসেছে এবং আরো আসছে। পরদিন দশ মাঘ ওরশ শরীফের প্রধান অনুষ্ঠান। সকাল এগারটায় রওজা পাক গোসল দেওয়া হয়। হযরত সাহেব কেবলার অছি-স্থলাভিষিক্ত প্রতিনিধি খাদেমুল ফোকরা হযরত মাওলানা শাহ্সুফি সৈয়দ দেলাওর হোসাইন সাহেব স্বপ্নের নির্দেশ পালনে রওজা শরীফ স্মৃতিকক্ষ হতে হলুদ ও খয়েরি রংয়ের দু’খানা চাদর খাদেম মালেকের দ্বারা আনয়ন করেন। অতঃপর হযরতের পবিত্র গদি শরীফে দু’পা ঝুলিয়ে রওজামুখী হয়ে বসেন। পুত্রকে আনার জন্য দরবারের প্রধান কর্মকর্তা মাওলানা সৈয়দ মাহফুজুল করিম সাহেবকে পাঠান। তিনদিন হতে যে ঘরের দরজা বন্ধ মাওলানা সাহেব দরজায় পৌঁছামাত্র খোলেন। হযরতের আমানত গ্রহণের জন্য তাঁকে নিতে পাঠিয়েছেন বলে জানালে খুবই শান্তভাবে বলেন, “আচ্ছাজী, আমি জানি। একটু অজু করে আসি”। হুজরায় গিয়ে পিতাকে যথাবিহিত সম্মান জানিয়ে একটু দূরে নতজানু হয়ে পিতার মুখোমুখি এমনভাবে বসেন যেন হযরত সাহেব কেবলা ও হযরত বাবা ভান্ডারীর রওজা শরীফ পিছনে না পড়ে। হলুদ রংয়ের চাদরটা নিজ গায়ে জড়িয়ে পিতা গুরু গম্ভীর স্বরে বলেন,
“হযরত গাউসুল আযম মাইজভান্ডারীর (ক.) যে পবিত্র মহান আমানত আমার হেফাজতে ছিলো তা আজ আপনাকে অর্পণ করছি; হেফাজত করবেন”
একথা বলে খয়েরি রংয়ের চাদরখানা নিজ -হাতে ছেলের গায়ে পরিয়ে দেন। ছেলের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, আলহামদুলিলাহ্। এ সময়ে হুজরার বারান্দা ও মাঠে উপস্থিত ছিলেন হযরত সাহেব কেবলার খলিফা মাওলানা সৈয়দ আমিনুল হক ফরহাদাবাদীর (র.) পুত্র আলহাজ্ব মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল ইসলাম, বাঁশখালীর প্রসিদ্ধ জমিদার হাবিবুর রহমান চৌধুরী, ফটিকছড়ি থানার আজিমপুর গ্রামের এডভোকেট আফসার উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম শহরের দেওয়ান বাজারের জনাব আরহাম আলী চৌধুরী, বোয়ালখালী থানার সারোয়াতলীর ডাঃ রুহুল আমিন সিদ্দিকী এবং আরো অনেকে। চাদর পরিয়ে দিলে তাঁর মস্তক ও শরীর হতে বিন্দু বিন্দু ঘাম বের হতে থাকে। হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক শাহ্ এভাবেই গাউসুল আযম মাইজভান্ডারীর প্রতিনিধিত্ব লাভ করেন। পুত্রের ডায়রীতে পিতা-পুত্র সম্পর্ক যেভাবে বর্ণিত, ‘মার্চ মাসের ১৫ তারিখ অলিয়ার প্রতি আমার মন নিবিষ্ট (রুজু হয়) ও বাবাকে চিনি বা চিনতে শিখি। ও মারে মা হেতান (তাঁর) বড় বড় দর্জা (তাজিম) আদব’। [মহান তিনে শক্তি” অধ্যায়]
এভাবেই জন্ম লগ্ন হতে বিশ্ব অলি রূপে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত হযরত শাহানশাহ বাবাজান (কঃ) কে হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ও হযরত বাবা ভাণ্ডারী (কঃ) উনাদের রুহানী তত্ত্বাবধানে পরিচালিত করেছেন

মারাজাল বাহরাইন চেরাগে গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারি বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত শাহসুফি সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি ক: এর জীবন-পর্বঃ (৩)

ক্রমে ক্রমে ভাব-বিভোরতা বাড়তেই থাকে।আত্মীয় স্বজন উনার পিতা মাতা কে পরামর্শ দিলেন বিয়ে হলে হয়তো ছেলে সংসারমূখী হয়ে উঠবে,ভাব বিভোরতা কমে যাবে।বিয়ের উপযুক্ত বয়স,তাই বিয়ে করানোও প্রয়োজন।চট্টগ্রামের জনৈক বিশিষ্ট শিল্পপতি মেয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন।সেখানে আত্মীয়তা করতে পরিবারের সকলে রাজি।কিন্তু কি এক অজ্ঞাত কারণে তিনি (মেয়ের বাবা) নিজ মত পরিবর্তন করেন।পরে ফটিকছড়ি থানার দাঁতমারা ইউনিয়নের বিশিষ্ট জমিদার জনাব বদরুজ্জামান চৌধুরী (প্রকাশ বদন শিকদার) সাহেবীর কন্যা মোসাম্মৎ সৈয়দা মুনওয়া বেগম সম্পর্কে আলোচনা হয়।এ আত্মীয়তার ব্যাপারে বরও (জিয়া বাবাও) সম্মত ছিলেন।অবশেষে বিয়ের তারিখ ধার্য করা হয় ২৮ জানুয়ারি ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দ,মঙ্গলবার। বিয়ের দিন বিকাল ২টায় চারখানা মোটর গাড়িযোগে বরযাত্রীরা দাঁতমারার উদ্দেশ্যে মাইজভান্ডার দরবার শরিফ থেকে যাত্রা আরম্ভ করেন।চৌদুল (বড় পালকী) ভাড়া নেয়া হলেও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি (জিয়া বাবা) গাড়িতে থাকেন।উনারা যখন নারায়ণহাটে পৌঁছে তখন রাত ঘনিয়ে আসে।বরকে তথায় চৌদুলে (বড় পালকীতে) বসানো হয়।চল্লিশটি হ্যাজাক বাতি (পাম্প লাইট) জ্বালিয়ে ব্যান্ড বাজিয়ে দশ দিক মুখরিত করে উনারা চলছেন।কিছুদুর যাবার পর খবর আসে চৌদুলে বর নেই।লাইট নিয়ে খুঁজতে খুঁজতে বরকে একটা ঝোপের মধ্যে পাওয়া গেল।তিনি বনের মধ্যে দিব্যি বসে আছেন।সকলের অনুরোধে অবশেষে চৌদুলে ফিরে আসেন।রাত ১১টার দিকে উনারা কনের পিত্রালয়ে গিয়ে উপস্থিত হন।রাত ১২ টার পূর্বে আকদ সম্পন্ন হয়।আনন্দ ঘন পরিবেশে রাত কেটে সকালে নাস্তা সেরে নববধু নিয়ে বরযাত্রী দল বাড়ির দিকে যাত্রা করেন।বাড়িতে এসে বিয়ের সাজসজ্জাসহ তিনি রাওজা শরিফের পুকুরের উত্তর দিকে লবণ গুদামে গিয়ে প্রবেশ করেন।নববধুর সাথে দর্শনের কোন ইচ্ছাও প্রকাশ করলেন না।স্ত্রীর প্রতি দু'বছর উনার কোন আকর্ষণ দেখা যায় নি।সর্বদা দূরে দূরে থাকতেন।এ সময় তিনি খুব শান্ত ছিলেন।উনাদের প্রথম কন্যা মাতুতালয়ে জম্মগ্রহণ করে এবং সেখানেই মাত্র দু'মাসের মধ্যে মারা যায়।বর্তমানে উনাদের পাঁচ কন্যা ও এক পুত্র রয়েছেন।উনাদের নাম শাহজাদী সৈয়দা জেবুননাহার বেগম,শাহজাদী সৈয়দা হুমায়রা বেগম,শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান মাঃ জিঃ আঃ,শাহজাদী সৈয়দা কুমকুম হাবিবা,শাহজাদী সৈয়দা উম্মে মুনমুন হাবিবা,শাহজাদী সৈয়দা নূরে আসমা কানিজ ফাতেমা। কারামাতঃ আরো বার বছরঃ হাদিসে কুদসিতেবলা আছে-'মানুষ আমার (আল্লাহর) রহস্য এবং আমি মানুষের রহস্য'।হাদিসে কুদসীর এ বর্ণনায় যেন মূর্তপ্রতীক বিশ্বঅলি শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল মাইজভাণ্ডারী কঃ।মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর রহস্যরাজি বাস্তবতার নিমিত্তে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর কর্ম,আচরণ ও অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে প্রকাশ পেত অহরহ।তিনি প্রতিদিন প্রায় প্রতিনিয়ত এত অধিক সংখ্যক রহস্যময় বাক্য উচ্চারণ ও ঘটনার সৃষ্টি করতেন যে,তা সাধারোণের পক্ষে নির্ণয় অসম্ভব।উনার অনেক বাক্যই ছিল সাধারণের জন্য অবোধ্য।তিনি মাঝে মধ্যে এমন ভাষায় স্বগতোক্তি করতেন যা একান্ত ঘনিষ্ট নিত্য সহচরেরা পর্যন্ত কখনো শুনেননি।১৯৭৫ সালের ২৩ জানুয়ারী।বহু লোকের সামনে হযরত সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী কঃ বলেন, "ক'দিন আগে আমার মুনিব হযরত কেবলা কঃ এখানে এসেছিলেন।আমি যেতে রাজি কিনা জিজ্ঞাসা করেছেন,আমি সম্মতি দিয়েছি"।সেখানে উপস্থিত রাউজান গুজরা নিবাসী আমিনুর রহমান সওদাগর কেঁদে , "গাউসিয়া হক মঞ্জিলের" কাচারি ঘরের সামনে এসে পৌঁছলে তথায় দন্ডায়মান সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী কঃ তাঁকে কাণ্ণাড় কাড়ন জীগেশ কোড়েণ।সওদাগর সাহেব বলেন," বাবাজান নাকি চলে যাবেন"। তিনি (জিয়া বাবা) বলেন, "খেলা নাকি।অমনি চলে যেতে পারে? বাবাজান চলে গেলে দরবার শরিফ বিরান হয়ে যাবে না? দশ বছর থাকতে হবে,তা না হলে সাত বছর তো থাকতেই হবে।" অতঃপর প্রথম ঘটনার( সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারীর অসুস্থতা) পর বারো বছর বছর পর এবং দ্বিতীয় ঘটনার (হযরত কেবলার আগমন) সাত বছর পর সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী কঃ ওফাত প্রাপ্ত হন।

মারাজাল বাহরাইন চেরাগে গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারি বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত শাহসুফি সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি ক: এর জীবন-পর্বঃ (২)

জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই মহান সাধকের জীবন-দর্শন ও মানস নিয়ে বহুমাত্রিক আলোচনা দীর্ঘদিন থেকে অনুভুত হচ্ছিল।হযরত গাউসুল আ'যম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ শাহ মাইজভাণ্ডারী কঃ জীবন ও কৃতি সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে গিয়ে তথ্যস্বল্পতা দেখে পল্লী কবি জসীম উদ্দিনের মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য।তিনি বলেছিলেন,"শাহজালাল পীরের মতই মাইজভান্ডারের সুপ্রসিদ্ধ পীর জনাব আহমদুল্লাহ সাহেবের জীবনের প্রকৃত মহিমা জানান যায় না।......তাঁহার জীবনের (অনেক) মহত্বপূর্ণ ঘটনা......আড়ালে পড়িয়াছে।......এই পীর সাহেবের জীবনে যে অনেক আত্মত্যাগ,অনেক সাধনা,সহৃদয় প্রবণতা ছিল,তাহা কল্পনা করিয়ে পারি।" [মুর্শিদা গানঃ জসীম উদ্দিনঃ বাংলা একাডেমি,ঢাকা কর্তৃক প্রকাশিত] বলা বাহুল্য,হযরত সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী কঃ এগিয়ে না এলে হযরত গাউসুল আ'যম মাইজভাণ্ডারী কঃ'র জীবন ও কৃতির বর্তমান তথ্যাবলী ও দুর্লভ হয়ে পড়তো। শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী কঃ এর স্মৃতি,জীবন ও তথ্যাবলি যেন হারিয়ে না যায় এজন্য স্মারক গ্রন্থ মালা নামে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য ও গবেষণামূলক সিরিজ প্রকাশনার একটা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল এতে 'রাহেবারে আলম' সাজ্জাদানশীলে 'গাউসিয়া হক মঞ্জিল' সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী মাঃ জিঃ আঃ এতে সম্মতি ও উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।ফলশ্রুতিতে গবেষণামূলক কাজের আয়োজন যে অধিক সময় ও আয়েস সাপেক্ষ ছিল,তা ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না। শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী কঃ গাউসুল আ'যম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ শাহ মাইজভাণ্ডারী কঃ এর সুনজরে পড়েন,যখন তিনি বি এ পরিক্ষা ত্যাগ দিয়ে বাড়ি ফেরত আসেন।তখন আহার নিদ্রা সবি ত্যাগ দেন।অনেক প্রকার চিকিৎসা করা হয় তবুও কোন পরিবর্তন না দেখে সবাই ব্যাকুল হয়।উনার সম্মানিত পিতা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী কঃ চিন্তাযুক্ত হয়ে পড়েন।বড় সন্তানের এরুপ অবস্থা কোন ওষুধ খুঁজে পাচ্ছেন না।এক রাতে তিনি চিন্তিত অবস্থায় বিশ্রাম করছেন,হঠাৎ দেখতে পেলেন,হযরত কেবলা (গাউসুল আযম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী কঃ) উনার পাশে এসে বলছেন," আপনি উদগ্রীব হয়েছেন কেন? আমার জুব্বাটি তাঁর গায়ের উপর ঢেলে দিন"।এমত দর্শনে তিনি তাড়াতাড়ি হযরতের স্মৃতি কামরা থেকে জুব্বাটি তালাশ করে নিলেন এবং জুব্বাটি ছেলের গায়ে ঢেলে দিয়ে তিনি আপন হুজরায় বিশ্রাম করতে আসলেন।একটু তন্দ্রা এসেছে,এমতাবস্থায় ছেলে এসে উনার হুজরার দরজা খুজলতে চেষ্টা করলেন।তিনি উঠে দরজা খুলে দিলেন।ছেলে উনার পাশে বিছানায় শুয়ে পড়লেন।উনার এমন নিদ্রা আসলো যে ,সারারাত গত হয়ে পর দিনের সন্ধ্যায় অবধি ঘুমিয়ে রইলেন।ঘুম হতে উঠে দেখলেন,ছেলের অবস্থা প্রায় শান্ত,ছেলেকে স্লান ও আহারান্তে পুনঃবিশ্রাম করতে দিলেন।এবারও তিনি সারারাত ও পরদিনের প্রায় ৯টা অবধি ঘুমে বিভোর হয়ে রইলেন।সেদিন হতে দেখা গেল,ছেলে সম্পূর্ণ সুস্থ ও শান্ত হয়ে উঠেছেন। আধ্যাত্মিক জীবন ও রিয়াজতঃ সাধারণ ও স্বাভাবিক জীবনের বাইরে উনার জীবন ধারা প্রবাহিত হয়েছিল ভিন্নতর পথে।উনার আচার-আচরণ,কথাবার্তা,­কাজকর্ম সব ছিল ব্যাতিক্রমধর্মী।সাধা­রণ মানুষ ব্যতিক্রম পছন্দ করেন।প্রথম দিকে তাই উনার আচরণের রহস্য বুঝতে পারে নি অনেকেই।জৈবিক প্রেরণাজাত সকল প্রকার চাহিদা ও অপক্ষমতা নির্মূল করার লক্ষ্যে হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী কঃ কঠোর সাধনায় নিমগ্ন হলেন।পৌষের কনকনে শীত।ঠান্ডায় মানুষ লেপ কাঁথার ভিতরেও টিকতে পারে না।পৌষ-মাঘের শীতে আন্দর বাড়ির পুকুরে ঘন্টার পর ঘন্টা,কখনো একটানা দুইদিনও পানিতে আকন্ঠ পানিতে ডুবে থাকতেন।বাড়ির পশ্চিমে লোহার খালেও কখনো নাক দেখিয়ে ডুবে থেকে সময় কাটিয়েছেন।অধিক ঠান্ডায় শরির ফ্যাকাসে সাদা হয়ে যেতো।পর পর কয়েকটি শীত ঋতু তিনি এমনি কষ্টকর সাধনায় কাটিয়েছেন।তিনি কাউকে কিছু না বলে বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম শহরস্থ বিভিন্ন জায়গায় চলে যেতেন।তিনি বহুবার বাড়ি থেকে পঁচিশ মাইল দূরত্বের চট্টগ্রাম সহরে হেঁটে আসা-যাওয়া করেছেন।একবার তিনি ৫/৬ দিন নিখোঁজ হয়ে যান। ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের জংগাকীর্ণ টিলা থেকে খবর পেয়ে উনাকে বাড়িতে আনা হয়,তিনি কখনো কখনো ৩/৪ দিন অনাহারে থাকতেন।কখনো এক পায়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতেন।একবার নিজ কক্ষের দরজা জানালা বন্ধ করে দীর্ঘ আঠারো দিন অনাহারে কাটিয়েছেন রিয়াজতে।কিছুদিন হাতের কাছে যা পেতেন তা আগুনে পুড়ে ফেলতেন।ঘরের লেপ,তোষক,কাপড়-চোপড় সব কিছু পোড়াতেন এবং বসে বসে দেখতেন।কেউ বাধা দিলে প্রহার করতেন।

মারাজাল বাহরাইন চেরাগে গাউসুল আ'যম মাইজভান্ডারি বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত শাহসুফি সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি ক: এর জীবন-পর্বঃ (১)

জম্ম ও পরিচয়ঃআপনারা অনেকেই 'শাহানশাহ' হিসেবে উনার নাম শুনে থাকবেন।মাইজভান্ডারি ঘরানার একজন মহান ও মহৎ অলি-এ-কামেল ও আধ্যাত্মিক সাধক হিসেবে তিনি দশ দিগন্ত কাপিয়ে গেছে।এই মহান অলি ১২ই রজব,১৩৪৭ হিজরি,১০ পৌষ,১৩৩৫ বাংলা,২৫ ডিসেম্বর ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে জম্মগ্রহণ করেন।তিনি গাউসুল আ'যম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী কঃ প্রকাশ "হযরত কেবলা" 'র আশেকের নাতী "খাদেমুল ফোকরা" সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী কঃ এর ১ম পুত্র।শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী কঃ 'র দাদাজানের নাম সৈয়দ ফয়জুল হক মাইজভাণ্ডারী কঃ প্রকাশ "ফানায়ে ওয়াসেল" ও নানাজানের নাম সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারী কঃ প্রকাশ "বাবা ভান্ডারি"।আপনারা সকলেই হয়ত এখন অবগত তিনি কেমন বুজুর্গ পরিবারে জম্মগ্রহণ করেছেন এবং কেমন বুজুর্গ ব্যাক্তিদের রক্ত উনার শরির মুবারকে বহমান। হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী কঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠ শেষে কানুনগো পাড়া সরকারি কলেজে ভর্তি হন।শিক্ষা জীবনের মাঝপথেই উনার জীবন স্রোত উলটে যায়।তিনি তখন বি এ পরিক্ষা দিচ্ছিলেন।পরিক্ষার তৃতীয় দিনে সাদা খাতা জমা দিয়ে তিনি মাইজভান্ডার দরবার শরিফে ফিরে আসেন।এ ফিরে আশা ছিল আসলে উনার বিশ্বযাত্রার সুচনা।এই বিশ্বযাত্রা শুরু হয়েছিল জীবন রহস্যের সুরঙ্গ পথে।পরিশেষে তিনি পরিণত হয় বিশ্ব-অলিতে। "I came to live in the glory of Love and the light of Beauty,which are the reflection of Lord.I am here,living and I can not be exiled from the domain of life for through my living word I will live in death.Icame here to be for all and with all,and what I do today in my solitude will be echoed tomorrow by the multidude," [KAHLIL GIBRAN] (আমি এসেছিলাম বাচতে ভালবাসার মহিমায় এবং সৌন্দর্যের আলোকমালায়, যা প্রভুর প্রতিবিম্ব ।আমি এখানে আছি,জীবন্ত এবং আমাকে জীবনের সাম্রাজ্য থেকে দেওয়া যাবে না নির্বাসন।কারণ আমার সজীব শব্দনিচয়ের মাধ্যমে আমি মৃত্যুতেও বেঁচে যাব ।আমি এখানে এসেছিলাম সকলের হবো এবং সকলের সাথে থাকবো বলে এবং আমি আজ নির্জনে বসে যা করছি,আগামীকাল শত লক্ষ কন্ঠে জাগবে তাঁর প্রতিধ্বনি।) [কাহলীল জিব্রান'......] শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ)-কে যারা দেখেছেন এবং অনুভব করতে পেরেছেন,দার্শনিক কবি কাহলীল জিব্রানের উপরোক্ত শব্দমালার মধ্যে ইতিমধ্যে দেখতে পাচ্ছেন উনার মানস প্রতিবিম্ব।আর উনাকে দেখার সৌভাগ্য যাদের হয় নি,তাঁরা ঐ শব্দগুলোর মর্মবাণী মাধ্যমে অনুধাবন করতে পারলে বিশাল হৃদয়ের অধিকারি ঐ মহান মানুষটাকে (অলিকে) কিঞ্চিত অনুভব করতে পারবেন।হ্যাঁ ঐ বিশাল অন্তরের মানুষটাই বলিষ্ঠ কন্ঠে বলতে পারেন, " আমার দরবার প্রাচ্যের বাইতুল মোকাদ্দাস,আল্লাহর ঘর,সকল জাতির মিলন কেন্দ্র"।"[ I came here to be for all and with all]" আমাদের দেশের আধ্যাত্মক গতানুগতিক ধ্যান-ধারণার আয়না নিয়ে দেখতে বসলে কেবল শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী কঃ নন,হযরত গাউসুল আযম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ শাহ মাইজভাণ্ডারী কঃ তথা সমগ্র মাইজভাণ্ডারী দর্শন,জ্ঞান ও মানব সাধনার যথার্থ ও সে বিষয়ে পরিচয় পাওয়া যাবে না।উনাদের আধ্যাত্মিক সাধনা মূলতঃ জ্ঞান বিজ্ঞানের সাধনা ও বৃহত্তর মানবতার কল্যাণ সাধনারই ফলিত রুপ।শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী কঃ স্বয়ং আধ্যাত্ম জ্ঞানের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার উপর সমানভাবে গুরুত্ব দিতেন।সবাইকে তাগিদ দিতেন ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের,কারিগতি জ্ঞান আহরণের।উনি উনার সারাটা জীবন কেবল সুবিচার-সততা-ন্যায়নিষ্ঠা-ধর্মপ্রাণতা-মানবতা ও সর্বপ্রেমবাদকেই লালন করেননি,পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাধনাকেও।কারণ,ব্যবহারিক জ্ঞান-বিজ্ঞানই কার্যতঃ সাধারণ্যে মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।